ছেলের নামের সেই দুই ইউনিয়নের নাম বদলের আবেদন প্রতিমন্ত্রীর

নিজের দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকা বগুড়ার সেই আলোচিত দুটি ইউনিয়নের নাম বিধি মোতাবেক পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের আবেদন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সংবাদমাধ্যম যুগান্তরকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কাকতালীয়ভাবে আমার দুই ছেলের নামের সঙ্গে যে দুটি ইউনিয়নের নাম মিলে গেছে এবং যা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বিধি মোতাবেক ওই দুটি নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণের জন্য বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছি। নাম দিয়ে আমি কী করব?’
সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা নিয়ে চলমান আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইদানীং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে কিছু কথা হচ্ছে। আমার নামে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলো ১৯৯৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত। এর বাইরে আমার নামে যাতে নতুন কেউ আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না করে, এই মর্মে আমি চলতি জুন মাসের ১ তারিখে সংশ্লিষ্ট সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছি।’
এছাড়া বগুড়া জেলায় বিশেষ বা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাকে ‘সঠিক নয়’ বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বরাদ্দের দিক থেকে দেশের সব জেলার মধ্যে বগুড়ার অবস্থান ১৭তম। এই খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কুমিল্লা জেলায়, যার পরিমাণ ৩৯০ কোটি টাকা।
বিতর্কের নেপথ্যে যা ছিল
সম্প্রতি বগুড়ার শিবগঞ্জ এবং নবঘোষিত মোকামতলা উপজেলায় নতুন চারটি ইউনিয়ন গঠন করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গত ১১ জুন বগুড়া জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি এবং মোকামতলা উপজেলার আটটি ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। এই গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরপরই নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ ওঠে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম তার পৈতৃক বাসভবন ‘মীরবাড়ী’র নামে শিবগঞ্জ উপজেলার নতুন ইউনিয়নের নামকরণ করেছেন ‘মীরবাড়ী ইউনিয়ন’। অন্যদিকে, তার দুই ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং মীর সাকলাইন আলম দিগন্তের নামানুসারে মোকামতলা উপজেলায় গঠিত নতুন ইউনিয়নগুলোর নামকরণ করা হয় যথাক্রমে ‘সীমান্ত ইউনিয়ন’ ও ‘দিগন্ত ইউনিয়ন’। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে প্রতিমন্ত্রী নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নেন।
