logo

হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, দালালদের দৌরাত্ম্য কেবল কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের সমস্যা নয়; এটি সারা দেশের একটি জাতীয় ব্যাধি। অসচ্ছল ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই অপরাধ। এসব অপকর্ম দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংবাদকর্মীদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে যত্রতত্র প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন কঠিন করা এবং সরকারি চিকিৎসকদের সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব—যদি সঠিক নজরদারি থাকে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কিছু স্থানে জমে থাকা ময়লা দেখে তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিষেধক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা যেন এডিস মশার মাধ্যমে নতুন করে আক্রান্ত না হন, সে জন্য সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া এবং সেবাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের সব অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলায় ফেরানো হবে।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত মর্গ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থান সংকুলান হলে জনস্বার্থে মর্গটি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ২১টি মর্গের পরিবেশ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) গ্রহণ করা হয়েছে, যার কাজ চলতি বছরেই শুরু হবে।