logo

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, মূল্যস্ফীতি হবে না

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, মূল্যস্ফীতি হবে না

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের টাকা বরাদ্দকরণ ও মূল্যস্ফীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। নারীরা যারা টাকা পাচ্ছেন, নিশ্চয় তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন।

বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এই প্রথম সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) সদস্য সচিব আখতার হোসেনের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নোত্তরের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল।

আখতার হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ড যেসব কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, তার ইতিবাচক কিছু দিক রয়েছে। জানার বিষয় হলো, ঠিক কতজন ব্যক্তি বা পরিবারকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে? তাতে কতটুকু বাজেট বরাদ্দ করা হবে? এবং সেই বাজেট বরাদ্দ সমন্বয় করতে গিয়ে মূল্যস্ফীতি-মুদ্রাস্ফীতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের পরিকল্পনা কী?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, স্বাভাবিকভাবে এর বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে জিনিসগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। কৃষক কার্ড যারা পাবেন, তারা বছরে পাবেন আড়াই হাজার টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড যারা আছেন নারী, তারা মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা।

প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটিকে এক্সটেন্ড (বৃদ্ধি) করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী কৃষক কার্ড পাবেন, অধিক সংখ্যক কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। একবারে সবাইকে দিচ্ছি না; পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষে এটি একবারে দেওয়া সম্ভব না করা। সে জন্য প্রতি বছরই আমরা বাজেটে স্যাংশন বাড়াব। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে টাকা এলট (বরাদ্দ) করব। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে এগোব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন মার্কেটে যাবে, যারা কৃষক কার্ড পাচ্ছেন, সেই সকল কৃষক, প্রান্তিক পর্যায়ের যে নারীরা পাচ্ছেন টাকা, নিশ্চয় তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন।  একজন নারী স্বাভাবিকভাবে সেটি দিয়ে তার সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে খরচ করবেন। অথবা সেটি দিয়ে তার সন্তানের বা পরিবারের একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবেন অথবা তিনি লোকালি কোনো ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। ফলে যেই টাকাটা সরকারের কাছ থেকে তার কাছে যাচ্ছে, সেই টাকা লোকাল ইকোনমিকে শক্তিশালী করছে। এতে মূল্যস্ফীতি হবে না, বরং অর্থনীতি সচল হবে।

এর ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ উন্নত জীবন পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।