ফেসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য ও কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে আইন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যমে গালাগালি, মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আইন তৈরির বিষয়ে কাজ চলছে। তবে নতুন আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দেখেছি ডিজিটাল সিকিউরিটির অ্যাক্ট থেকে আরম্ভ করে অন্যান্য কিছু সংবাদমাধ্যমকে বা নিউজপেপারকে দমিয়ে রাখা বা তাদের ওপরে ভিউজ করার জন্যই একচুয়ালি ইউজ হয়েছে। কোনো কারণে আইন তো আর এক দিনের জন্য হয় না। আমরা খুব কেয়ারফুল থাকার চেষ্টা করছি, কোনো ওয়ার্ডিং যেন আগামীতে এই ধরনের কোনো দরজা না খুলে দেয়।’
নতুন কোনো আইন করার ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও আইনের ব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে ভবিষ্যতে যেন অপব্যবহারের কোনো পথ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং জননৈতিকতার অবক্ষয় রোধ করা।
মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের নামে যে ধরনের গালিগালাজ ও অশালীন ভাষার ব্যবহার বাড়ছে, তা কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইদানীং ফেসবুক বলেন বা সব জায়গায় দেখছি, গণতন্ত্রের নামে গালিগালাজ, গালিগালাজের ভাষা বা যা যা হচ্ছে, এই জিনিসগুলোকে আমরা কীভাবে আইনের মধ্যে আনতে পারি, একই সময়ে আমরা কীভাবে এক্সপ্রেশন, মানে মিডিয়ার যে ফ্রিডম, সেটাকেও রেসপেক্ট করতে পারি, দুটির মধ্যে যেন কোনোভাবে কনফ্লিক্ট না হয়, এ ব্যাপারেই আমরা বারবার কথা বলার চেষ্টা করছি।’
নতুন এই আইন দমন বা কণ্ঠরোধের জন্য হচ্ছে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনও খসড়া প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এমনভাবে আইনটির খসড়া তৈরির চেষ্টা চলছে, যাতে ভবিষ্যতে এর অপব্যবহারের সুযোগ না থাকে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, শুধু আইন করলেই হবে না; সামাজিক অপরাধ ও অনলাইন আচরণ নিয়েও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বিভিন্ন সেক্টরের যারা আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলছি, যেন ড্রাফটটা এমনভাবে হয়, এটা দিয়ে ভবিষ্যতে এবিউজ করার কোনো কিছু না থাকে।’
সামাজিক সচেতনতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সোশাল অ্যাওয়ারনেস খুব গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাপারগুলোতে। যেকোনো কনন্টেন্ট পেলেই শেয়ার করে দেওয়া, মানহানিকর বক্তব্য বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানিকর তথ্য পুনরায় প্রচার- এটাও একটা মানহানিকর বিষয়। এই ব্যাপারগুলো জাতিকে বা মানুষকে বোঝানো, বলার ব্যাপারেও একটা প্রোগ্রাম নিব।’



