ঈদে শাড়ি-থ্রিপিস পাচ্ছেন বিএনপির এমপিরা, বাদ জামায়াত জোট

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কেবল সরকারি জোটের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায়।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ স্বাক্ষর করা একটি পত্র থেকে জানা যায়, দেশের ২১৫টি সংসদীয় আসনে ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি এলাকায় ৭০০টি সিনথেটিক শাড়ি, ১০০ থ্রি-পিস ও ৫০টি হাজী রুমাল।
তবে তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, এসব বরাদ্দ এমন সব আসনে দেওয়া হয়েছে যেখানে সরকারি জোটের (বিএনপি ও তাদের শরিকরা) সংসদ সদস্যরা প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যদিকে, সংসদের মোট ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি আসনগুলো জামায়াতে ইসলামী–এনসিপি জোট বা স্বতন্ত্র এমপিদের দখলে সেসব এলাকার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়নি।
এ বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি তাহলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ থেকে ‘সবার আগে বিএনপি’ নীতিতে চলে যাচ্ছি? প্রধানমন্ত্রী কি শুধু ৫০ শতাংশ মানুষের জন্য? আমাদের এলাকার মানুষ কি ট্যাক্স-ভ্যাট দেয় না?
তিনি আরও লিখেছেন, এই ধরনের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত জনগণ মনে রাখবে।
এদিকে বিএনপির একজন সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ত্রাণসামগ্রী সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়ার কথা নয়। বরং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই সেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করবেন। পরে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের পরামর্শ অনুযায়ী এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ার হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে ত্রাণ সংগ্রহে বিলম্বের আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য নিজ দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে সামগ্রী সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তা বিতরণ করতে পারবেন।
এ বরাদ্দের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলেও বরাদ্দপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।