logo

ডলার পাচার নিয়ে রুমিন ফারহানার অভিযোগে কী জবাব দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ডলার পাচার নিয়ে রুমিন ফারহানার অভিযোগে কী জবাব দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে প্রতি বছর দেশ থেকে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এর জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল আমদানি-রপ্তানি অর্থনীতির মধ্যে ঠিক কোন পণ্যের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে (পিনপয়েন্ট) চিহ্নিত করা বেশ জটিল বিষয়।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে করা এক সম্পূরক প্রশ্নের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা এই অভিযোগ তোলেন।

প্রশ্নকালে রুমিন ফারহানা বলেন, আমদানি এবং রপ্তানির আড়ালে প্রতি বছর ৮ বিলিয়ন ডলারের মতো টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের অর্থ পাচার বন্ধ করার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কিছু করার আছে কি না, থাকলে সেটি কী এবং এ ব্যাপারে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ রয়েছে কি না, বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান তিনি।

উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে যাওয়ার বিষয়টি একটি ধারণাগত হিসাব (পারসিভড অ্যামাউন্ট)। বর্তমানে আমদানিকৃত অনেক পণ্যের ওপর ট্যারিফ বা শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে এবং সেগুলোর মূল্যও ফিক্সড (নির্ধারিত) আছে। পাশাপাশি অনেক পণ্যের ক্ষেত্রেই পিএসআই বা প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের ক্লজ (শর্ত) যুক্ত রয়েছে। যদি এই প্রি-শিপমেন্ট ক্লজ এবং ট্যারিফ ভ্যালুর বাইরে কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে এমন কোনো দুর্বলতা থাকে, যার মাধ্যমে বেশি অর্থ পাচার হচ্ছে তবে সেটি একটি স্টাডি বা গভীর গবেষণার বিষয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি শুনতে বা বলতে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা নয়, কারণ হাজার হাজার পণ্য বাংলাদেশে আসে। দেশের সামগ্রিক বাণিজ্যের একটি ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, গত বছর আমাদের আমদানি ছিল প্রায় ৬৭ বিলিয়ন ডলারের মতো এবং রপ্তানি ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই দেশটির প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল আমদানি-রপ্তানির অর্থনীতি রয়েছে। এই বিপুল কর্মযজ্ঞের মধ্য থেকে ঠিক কোন প্রোডাক্টের আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে, তা পিনপয়েন্ট করে বলা বেশ জটিল এবং এটি একটি গবেষণাধর্মী কাজ।

তবে এই বিষয়ে সরকার সচেতন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্টাডি করা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, যদি আমাদের নজরে এই ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় আসে, তবে অবশ্যই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।