logo

সরকারকে বুঝতে হবে মানুষ কেবল ক্ষমতার নয়, সিস্টেমেরও বদল চেয়েছিল: ডেল এইচ খান

সরকারকে বুঝতে হবে মানুষ কেবল ক্ষমতার নয়, সিস্টেমেরও বদল চেয়েছিল: ডেল এইচ খান

বর্তমান সরকারকে বুঝতে হবে ৫ আগস্টের পর মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল নয়, সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনতার দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)। 

সম্প্রতি এশিয়া পোস্টের ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

ডেল এইচ খান বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের রাষ্ট্রটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। রাষ্ট্র তখন এমন অবস্থায় ছিল যেন তাকে আইসিইউতে নিতে হয়েছে। প্রায় দেড় বছর এই রাষ্ট্রকে বিভিন্ন ‘লাইফ সেভিং ড্রাগ’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কার প্রস্তাব বা ‘প্রেসক্রিপশন’ তৈরি করেছিলেন যাতে রাষ্ট্র পুনরায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। 

‘কিন্তু সমস্যাটা শুরু হলো তখন, যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নির্বাচিত সরকারের হাতে অর্থাৎ বিএনপির হাতে তুলে দেওয়া হলো। তারা বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় এলো ঠিকই, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই বিএনপি ঘোষণা করল যে, তারা সংবিধান সংস্কারের বা রিফর্মের কোনো শপথ নেবে না। অর্থাৎ তারা সংস্কারের প্রক্রিয়াটিকে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করল। এটা একটা বড় জাতীয় সংকট।’

 

জনতার দলের এই নেতা বলেন, আমরা যদি গত ৫৪ বছরের পচা সিস্টেমকেই আবার ফিরিয়ে আনি, তবে এই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে। নির্বাচিত সরকারকে বুঝতে হবে যে, মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল চায়নি, মানুষ সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। যদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়, তবে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে।

‘বিএনপিকে খুব পরিষ্কারভাবে একটি সত্য বুঝতে হবে যে—জুলাই অভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনাই ছিল না। শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন, তাতে নির্বাচন ছাড়াই তিনি আরও বহু বছর ক্ষমতায় থাকতেন। এখন যদি কেউ এই জুলাইয়ের অর্জনকে বা গণআকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করতে চায়, তবে সেটা হবে চরম পর্যায়ের জাতীয় গাদ্দারি।’

ডেল এইচ খান বলেন, সাধারণ মানুষ বা বর্তমানের এই ‘জেন-জি’ জেনারেশন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা মেনে নেবে না। ১৭ বছরের লৌহমানবী শেখ হাসিনা এবং তার বিশাল বাহিনীকে যদি সাধারণ ছাত্র-জনতা এক ধাক্কায় দেশছাড়া করতে পারে, তবে নতুন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তারা রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। তাই বিএনপির উচিত হবে সংস্কারের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জনগণের পালস বোঝা। যদি তারা তা না করে কেবল ক্ষমতার দাপট দেখাতে চায়, তবে তারা নিজেদের জন্য একটি আত্মঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করবে।