স্কুলের ভর্তিতে আবারও পরীক্ষার দিকে যেতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

আগামী ৩ মাসের মধ্যে শিক্ষা কারিকুলামে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি বাদ দিয়ে আবারও পরীক্ষার দিকে যেতে চায় সরকার।
সোমবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে শিক্ষা খাত নিয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের গুণগত মান বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার দিকেও নজর দেওয়া হবে।
কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে ইশতেহার বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে পারেনি উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ২৮ কর্মদিবসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননসহ ইশতেহারে দেওয়া সব বিষয় নিয়ে কাজ শুরু হয়ে গেছে। তাই শিক্ষা খাতেও সেই অনুযায়ী কাজ হবে।
এর আগে গতকাল রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি থাকবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন করেন।
প্রশ্নে হাসনাত বলেন, প্রাইমারি স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করানোর ক্ষেত্রে আমরা কি ভর্তির প্রক্রিয়াটি পরিবর্তন করব নাকি অ্যাডমিশন বাই লটারির মাধ্যমেই আমরা ভর্তি নেব এবং মেধাকে সবসময় দমিয়ে রাখব?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৭ সালে আসবে।
শিক্ষামন্ত্রীকে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতিতে আমরা যদি দেখি, আমরা যারা পয়সা দিয়ে কিনতে পারি তারা এখন ইংরেজি মাধ্যমটা কিনছে। যারা পয়সা দিয়ে ইংরেজি মাধ্যম কিনতে পারে না, তারাই কেবল প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে ভাবছে। আমাদের জন্য জনজীবনের জন্য আপনি যে শিক্ষা চালু করেছেন সেটাও আমরা কিনছি। আর যারা সেটাও কিনতে পারে না, তারা মাদ্রাসা শিক্ষাপদ্ধতি কিনছে।
শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, এই তিনটা শিক্ষাপদ্ধতি জিইয়ে রেখে আপনার কি মনে হয় যে আপনি একটা ইনক্লুসিভ শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে আমাদের দেশটাকে আগায় নিতে পারবেন?
প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরগুলোতে আমাদের এই প্রাথমিক স্তরে ভর্তির একটি সমস্যা রয়েছে। এই জটিলতা নিরসনের জন্য বিগত সরকার লটারি সিস্টেম করেছিল, যেটা আদৌ আমার মনে হয় না যুক্তিসংগত। তবে আগামী বছর এই শিক্ষাব্যবস্থায় ভর্তি সিস্টেম কীভাবে করা হবে সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অর্থাৎ অভিভাবকদের সঙ্গে, বিভিন্ন রকম সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে সংসদ সদস্য সবার অভিমত নিয়ে একটি জনমত সৃষ্টি করে আমরা আগামী ২০২৭-এর জানুয়ারি ভর্তির বিষয়ে চিন্তা করব।
ভর্তির প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশা করি এই সংসদে এই বিষয়গুলো আলোচনা হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। মূলত আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য রুরাল অ্যান্ড আরবান এই দুইটি সেকশন রয়েছে। এখন গ্রামীণ জনপদে যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে সেখানে প্রি-প্রাইমারি স্কুল রয়েছে এবং ছাত্র সংখ্যা এতটা কম্পিটিটিভ নয়, সেই কারণে সেখানে ভর্তি সমস্যা তেমন একটা হচ্ছে না। তবে শহরে ভর্তিসংক্রান্ত সমস্যা হচ্ছে।