ওয়াসার সদ্য বিদায়ী এমডিকে দুদকে তলব

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার সদ্য বিদায়ী এমডি আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে আগামী ১১ মার্চ তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৯ মার্চ) দুদক এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম বেপারীর বিরুদ্ধে নানা বিধ অনিয়ম-দুর্নীতি এবং সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বিদেশে অর্থপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
উল্লিখিত অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্দানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য পর্যালোচনা করা একান্ত প্রয়োজন।
ওই নোটিশে বলা হয়েছে, নিম্নলিখিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।
দুদকের নোটিশে বলা হয়েছে, এ জন্য আপনার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, আপনার স্ত্রী, সন্তান এবং আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্টের মূল কপি। শুরু থেকে সর্বশেষ দাখিল পর্যন্ত আপনার পরিবারের সকলের আয়কর নথি নিয়ে আসতে হবে।
এর আগে, আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডি জানায়, মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত অবৈধ অর্থ তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। নিজের, স্ত্রীর এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি।
সিআইডির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৮ মার্চ কানাডার টরন্টো শহরে নিজের ও স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার নামে একটি বাড়ি কেনেন আব্দুস সালাম। স্থানীয় ভূমি নিবন্ধন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ওই বাড়ির বর্তমান বাজারমূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি টাকা। ইতোপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও কানাডায় তার পরিবারের এই বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
এ–সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ অনুসারে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সিআইডি অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।
আব্দুস সালাম ব্যাপারীর পরিবারের কানাডার বাড়ি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর তাকে সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। এমনকি ঢাকা ওয়াসার একটি অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকলেও সেখানে যেতে পারেননি আব্দুস সালাম।