logo

মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

মেডিকেল শিক্ষার্থী অর্পিতার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিন মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। তিন সদস্যের এ কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কমিটিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন—শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শৃঙ্খলা) ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, অর্পিতা নওশিনের অকাল মৃত্যুর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। ঘটনায় বর্ণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ, শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এই অব্যবস্থা তিন সদস্যের কমিটি নওশিনের মৃত্যুর কারণ, নেপথ্যে কারণ, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম বিশেষ করে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া, কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকার বিষয়গুলোও তদন্ত করবে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। 

এর আগে, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবস্থিত সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের হোস্টেল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানান তার সহপাঠীরা।

জানা গেছে, অর্পিতা নওশিন শুরু থেকেই এনাটমি বিষয়ে জটিলতায় পড়েন। প্রথম বর্ষে থাকাকালে বিভাগের তৎকালীন প্রধানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এরপর থেকে তিনি এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন।

নওশিন পাঁচবার এ পরীক্ষায় অংশ নিয়েও পাস করতে পারেননি। ফলে সহপাঠীরা যখন শেষ বর্ষে, তখনও তাকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাস ও প্রফেশনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এ পরিস্থিতি তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে বলে জানান সহপাঠীরা।