logo
Advertisement

উত্তর ঢাকা বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
উত্তর ঢাকা বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি বেইজিংয়ে স্বাক্ষরিত
উত্তর ঢাকা বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত এআইআইবি সদর দপ্তরে। ছবি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সৌজন্যে

বাংলাদেশের প্রথম ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ’ উৎপাদন উদ্যোগ ‘উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের’ অর্থায়ন চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

Advertisement

গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) সদর দপ্তরে এই বহুমাত্রিক অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রধান অংশীদার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম, সিনোম্যাচের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের চেয়ারম্যান ওয়াং বো, এআইআইবির গ্লোবাল প্রজেক্ট অ্যান্ড করপোরেট ফাইন্যান্স ক্লায়েন্ট ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর জেনারেল নাজিব হায়দার। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিবিএস ব্যাংক চায়নার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান (লার্জ করপোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং) ঝেং কে, ব্যাংক অব চায়না বেইজিং শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ান বিং, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রাইভেট সেক্টর অ্যান্ড নন-সোভারেন গ্যারান্টিড অপারেশন্স ব্যুরোর ডিরেক্টর জেনারেল হান বিন এবং চায়না এক্সপোর্ট অ্যান্ড ক্রেডিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনের (সিনোসিওর) স্ট্র্যাটেজিক ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট ১-এর জেনারেল ম্যানেজার ঝেং ঝোংপিং উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তার বক্তব্যে বলেন, উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প হলো বাংলাদেশের প্রথম বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উদ্যোগ। গৃহস্থালির বর্জ্যকে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক তাৎপর্য বহন করে। তিনি সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশ সরকার প্রকল্পটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা এবং এটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা নিশ্চিত করতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।

ওয়াং বো উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে সমর্থনের জন্য উপস্থিত সব পক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সিনোম্যাচ ও সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের ইতিহাস, পেশাগত দক্ষতা এবং ব্যবসা উন্নয়নের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি সবুজ ও টেকসই উন্নয়ন ধারণার বাস্তবায়ন এবং চীন-বাংলাদেশের মধ্যে বাস্তবিক সহযোগিতা জোরদার করার একটি মাইলফলক। এটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পটি বহু পাক্ষিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সিনোসিওরের আওতাভুক্ত দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর যৌথ অর্থায়নের একটি উদ্ভাবনী মডেল গ্রহণ করেছে, যা এই খাতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ ‘উচ্চ মান, টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’ নীতির অধীনে প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনা এগিয়ে নেবে। তারা এটিকে চীন-বাংলাদেশের সবুজ সহযোগিতা ও পারস্পরিক লাভের একটি অনন্য মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা করে।

এআইআইবিসহ অংশগ্রহণকারী অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে তাদের বক্তব্য দেন। তারা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সবুজ উন্নয়ন কাঠামোর অধীনে এই প্রকল্পের অনুকরণীয় মূল্যের উচ্চ প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের অবকাঠামো ও পরিবেশ সংরক্ষণ খাতে সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের অর্জিত সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়ে তারা জানান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে, সমস্ত অর্থায়ন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে এবং নির্মাণের জন্য দৃঢ় আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।

সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ দ্বারা বিনিয়োগকৃত উত্তর ঢাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি দৈনিক ৩ হাজার টন গৃহস্থালির বর্জ্য পোড়ানোর জন্য এবং বার্ষিক ৩৭০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের প্রথম বর্জ্য পোড়ানো বিদ্যুৎ প্রকল্প। চালুর পর এটি স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এবং অসাধারণ পরিবেশগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিনোম্যাচ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার ফাং ইয়ানশুই, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার তিয়ান ঝেং, সিএএমসিই’র চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার কাং ঝিফেং। এ ছাড়া চীনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ ব্যাংক, এআইআইবি, ডিবিএস ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, সিনোসিওর, সিটি ব্যাংক বাংলাদেশ এবং কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ও ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড অ্যাসেট অপারেশন ডিভিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।