বজ্রাঘাতে চার জেলায় আটজনের মৃত্যু

বজ্রাঘাতে চার জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে তিনজন, সুনামগঞ্জের দুই উপজেলায় তিনজন এবং হবিগঞ্জ ও নোয়াখালীতে একজন করে মারা গেছেন।
নেত্রকোনায় তিনজনের মৃত্যু
নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ফেরিঘাট এলাকায় ধনু নদের পাড়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আব্দুল মোতালিব নামের এক মাছ শিকারির মৃত্যু হয়। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাগবেড় গ্রামের বাসিন্দা।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতগাঁও গ্রামে বাড়ির সামনে হাওরে ধান শুকাতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মোনায়েম খাঁ নামে এক ব্যক্তি মারা যান। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা।
দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান শুভ মণ্ডল নামে এক শ্রমিক। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং ধান কাটার কাজে খালিয়াজুরীতে এসেছিলেন।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন জানান, তাদের মধ্যে একজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্য দুজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
সুনামগঞ্জে পৃথক স্থানে তিন কৃষকের মৃত্যু
সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। সোমবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জ উপজেলার পৃথক হাওরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২), মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) ও জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে ধান কাটছিলেন সদর উপজেলার বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। একই সময়ে সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান। এদিকে হাওর থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রমের আবু সালেহ নামে আরেক কৃষকের মৃত্যু হয়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে তিন কৃষক মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন, আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।
নোয়াখালীতে মায়ের সামনে মারা গেল ছেলে
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়াতে বজ্রাঘাতে মো. আরাফাত হোসেন (২১) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আরাফাত একই গ্রামের আবু বক্কর ছিদ্দিক মিয়া বাড়ির মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে। বাদাম তুলে ফেরার পথে মায়ের সামনেই বজ্রপাতে মৃত্যু হয় আরাফাতের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আরাফাত স্থানীয় খাসেরহাট বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি পরিবারের জমিতে কাজও করতেন। দুপুরের দিকে তার মা শায়েলা আক্তারসহ বাড়ির পাশে বাদাম ক্ষেত থেকে বাদাম তুলতে যান। বাদাম তুলে বাড়ি নিয়ে আসার পথে বজ্রপাতের শিকার হন আরাফাত। এতে ঘটনাস্থলেই মায়ের সামনে তার মৃত্যু হয়। পরে তার মায়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে।
চরঈশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদ উদ্দিন বলেন, ক্ষেত থেকে বাদাম তুলে মা-ছেলে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় তার মা সামনে ছিলেন, ছেলে পেছনে ছিলেন। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মায়ের সামনে ছেলে মারা যায়। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জে ধান কাটার সময় কৃষকের মৃত্যু
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে মকছুদ আলী নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রাম সংলগ্ন গড়দার হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, মকছুদ আলী (৪০) নিজ জমিতে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত মকছুদ আলীর পরিবার দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল রোববার (২৬ এপ্রিল) বজ্রাঘাতে গাইবান্ধায় পাঁচজনসহ ছয় জেলায় মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাইবান্ধার তিন উপজেলায় পাঁচজন, সিরাজগঞ্জের দুই উপজেলায় দুজন, জামালপুরের দুই উপজেলায় দুজন, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুজন এবং নাটোরের সিংড়া ও বগুড়ার গাবতলীতে একজন করে মারা গেছেন।
[প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নোয়াখালী সংবাদদাতা]