পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ৯৪৬ এএসআইকে পদোন্নতি দিতে চায় না সরকার

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ৯৪৬ এএসআইকে পদোন্নতি দিতে চায় না বর্তমান সরকার। সেজন্য সম্প্রতি আইন পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে তাদের পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের ওপর ক্ষুব্ধ পদায়নপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, পুলিশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসআই পদে পদোন্নতি দিতে গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে এএসআই সদস্যদের পরীক্ষা নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। পরীক্ষায় সারা দেশের প্রায় ১২ হাজার এএসআই অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৯৪৬ জন চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণ হন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব এএসআইকে পদোন্নতি না দিতে পুলিশের প্রবিধান-৭৪১(বি) পরিবর্তনের জন্য ৬ এপ্রিল সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাব অনুমোদন হলে এসআই পদে শুরু হবে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া। এর ফলে পদোন্নতি বঞ্চনার মুখে পড়বেন ৯৪৬ এএসআই।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে জনবল বৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে পদায়নপ্রত্যাশীরা দাবি করেন, সরাসরি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাবসহ নানা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টরা এসব সুযোগ কাজে লাগাতে বাহিনীর ভেতর থেকে পদোন্নতি না দিয়ে সরাসরি নিয়োগের পথ তৈরি করছেন।
কয়েকজন এএসআই নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শুনেছি আমাদের অপরাধ আওয়ামী লীগ সময়ে নিয়োগ পাওয়া। অথচ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেকের চাকরি তত্ত্বাবধায়ক ও বিএনপি সরকারের সময়ে হয়েছে। সেগুলো বিবেচনা না করে ঢালাওভাবে আওয়ামী লীগ তকমা দিয়ে আমাদের পদোন্নতি বন্ধ করা হচ্ছে।
ঢাকায় কর্মরত পুলিশের এএসআই নাসরিন আক্তার বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর বাহিনীতে আছি। পদোন্নতি পেতে ১২ ঘণ্টার বেশি ডিউটি করেও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। কিন্তু আইন পরিবর্তন করে আমার পদোন্নতির রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
মো. শামিম আল মামুন নামের এএসআই বলেন, যারা পুলিশে সৈনিক পদে যোগ দেন, চাকরির শুরু থেকে তাদের স্বপ্ন থাকে পদোন্নতি পাওয়া। ডিউটির পাশাপাশি তারা সেভাবেই পরিশ্রম করে; কিন্তু সরকার আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে সরাসরি এসআই নিয়োগ দেবে। এটা আমাদের সঙ্গে বৈষম্য।
পুলিশের সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, বাহিনীর ভেতরের সদস্যদের অভিজ্ঞতা বেশি। যাদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের অবশ্যই পদোন্নতি দেওয়া উচিত। পদোন্নতি না দিলে বাহিনীতে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে। তারা পদোন্নতির কথা চিন্তা করে পরিশ্রম করেন। যখন তারা দেখবেন সবই বাইরে থেকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তখন দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাবে।
সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম বলেন, বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের স্বার্থ আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত। চলমান আইন অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা উচিত। আইন পরিবর্তন বা আইনের বাইরে গিয়ে অন্যকিছু করলে বাহিনীর ভেতরে থাকা যোগ্যরা তাদের প্রাপ্যতা থেকে বঞ্চিত হবেন। সরাসরি নিয়োগের আগে সরকারের উচ্চমহল ও কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর