logo

অস্ত্র প্রদর্শন আত্মরক্ষার্থে, অভিযান বানচালে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: ইশরাক হোসেন

অস্ত্র প্রদর্শন আত্মরক্ষার্থে, অভিযান বানচালে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ছবি: ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ঘটনায় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে ‘খণ্ডিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ওই ঘটনার ভিডিওচিত্রের কেবল একটি অংশ প্রচার করে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ছিল। গত জুন মাসেও মাদক সিন্ডিকেটের গুলিতে ৩ জন নিরীহ নাগরিক আহত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবলসংকট দূর ও পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনে ডিওলেটার দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ওই এলাকায় সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র প্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিযানে যাওয়ার আগেই নিরাপত্তার ঝুঁকি ও মাদক কারবারিদের আকস্মিক গুলিবর্ষণের বিষয়ে সতর্কবার্তা ছিল। কর্মসূচিকালে একটি আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০-৩৫ জন অস্ত্রধারী ও মাদক কারবারি মারমুখী হয়ে গাড়িবহরের দিকে ধেয়ে আসে। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় আমি ও আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসামাত্রই অস্ত্রটি আবার সরিয়ে নেওয়া হয়। আইন মেনে কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থেই ওই লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রটি বের করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৪-৫টি অবৈধ মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয় বলে জানানো হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হেরোইন, বিদেশি মদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মোবাইলসহ ৬ জন মাদক কারবারিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়।

কয়েকটি জাতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম অতিউৎসাহী হয়ে সত্য গোপন করে বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছে। তারা মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং কারবারিদের আটকের মতো অভিযানের মূল সাফল্য এড়িয়ে গিয়ে কেবল ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ শিরোনামে খণ্ডিত দৃশ্য প্রচার করেছে, যা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে ঢাকা-৬ আসনকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত না করা পর্যন্ত এ ধরনের সামাজিক প্রতিরোধ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।