হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাতভর যমুনার সামনে অবস্থান

শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে রাতভর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতিসংঘের অধীনেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে যতক্ষণ অবধি চিঠি ইস্যু হবে না, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, অনেকেই ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিকে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা বলে মিথ্যে উসকানি দিচ্ছে। যারা এসব বলছে, ওসমান হাদি হত্যার পেছনে তাদের ষড়যন্ত্র আছে।
তিনি বলেন, নির্বাচন ১২ তারিখেই হতে হবে। কিন্তু নির্বাচনের জন্য কি আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাইতে পারব না? তার স্ত্রী কি স্বামী হত্যার বিচার চাইতে পারবে না? শহীদ ওসমান হাদির সন্তান কি তার বাবা হত্যার বিচার চাইতে পারবে না? যারা বিচার ও নির্বাচনকে মুখোমুখি করতে চাইছে আমরা মনে করি তারা নির্বাচনও চায় না, বিচারও চায় না।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। প্রয়োজনে এখান থেকেই আমরা ১২ তারিখে ভোট দিতে যাব। তবুও রাজপথ ছেড়ে কোথাও যাব না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে দোষারোপ করে জাবের বলেন, এই সরকার শহীদ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে এটাকে আড়াল করার জন্য যত চেষ্টা করেছে, তার ১০ শতাংশও যদি খুনিদের জনতার সম্মুখে আনার চেষ্টা করতো, তাহলে এত দিনে খুনিরা ধরা পড়ে যেত।
তিনি বলেন, আজ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫৫ থেকে ৫৬ দিন পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। যার ফলে আমরা এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকার ইতোমধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মামলার তদন্ত করার প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রেস সচিব বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এই মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিতে অবিচল রয়েছে। এ ধরনের তদন্তে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে।