logo

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

আর মাত্র কিছু সময় পর শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোটও দেবেন ভোটাররা। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন ও ভোটকেন্দ্রে উপকরণ পৌঁছানোসহ ভোটের সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বাংলাদেশের এবারের সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ইস্যুতে।

পুলিশের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে তালিকা পাঠানো হয়েছে। সেখানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকার ৭৫ শতাংশের বেশি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ বলা হয়েছে। দেশের সব ভোটকেন্দ্রের মধ্যে 'ঝুঁকিপূর্ণ' কেন্দ্র ৪০ শতাংশের ওপরে।

এদিকে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ এবং গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে ঢাকায় পৌঁছেছেন অন্তত ৩৯৪ বিদেশি নির্বাচনি পর্যবেক্ষক এবং ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক।

সিইসি জানান, আন্তর্জাতিক সাংবাদিক এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বরাবরই নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুসারে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সবশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনটিই বিতর্কের জন্ম দেয়। তাই সবার চোখ এবারের নির্বাচনে।

এবার ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোট হবে। প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত হয়েছে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন। ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোট গ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে।

এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০ প্রবাসীর ব্যালট ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে। ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন ভোটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কারাগারে থাকা ভোটাররা।

২০০৮ সালে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫১টি দলে অংশ নিচ্ছে এবারের নির্বাচনে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী আছেন ৮০ জন।

রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এবারের ভোটে প্রতীকও থাকছে সবচেয়ে বেশি। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তায় জোর ইসির

নির্বাচনে পুলিশসহ ৯ লাখের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১ লাখ ৮ হাজারের বেশি। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশে এখন মোতায়েন আছে বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ সদস্যকে ১০ জেলার ১৭টি আসনে মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭ হাজার ৪৫৩ বিজিবি সদস্যও নির্দিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে মোতায়েন করা হবে।

bigStoryContent

এদিকে প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যের দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা।

সারা দেশের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে বা বাইরে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা বা অস্থিরতার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠাতে চালু থাকবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’। তবে এটি শুধু নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ব্যবহার করবেন।

আর সদ্য চালু হওয়া হটলাইন নম্বর ৩৩৩-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে, সতর্কবার্তা দিতে বা তথ্য দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ও ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি হটলাইন নম্বর (+৮৮০২২২৬৬৪১১১৮) চালু করা হয়েছে।

bigStoryContent

ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ কেন্দ্রেই

এবার গণভোটের কারণে ভোটগ্রহণ এক ঘণ্টা বাড়ানোয় সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। এরপরই শুরু হবে ভোট গণনা। এ সময় প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা থাকতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।

গণনা শেষে বিবরণী কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড বা দেয়ালে টানিয়ে দেওয়া হবে। পরে প্রিসাইডিং অফিসার কেন্দ্রের ভোট গণনার বিবরণী নির্ধারিত ফরমে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করবেন। ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনের কাছেও একটি কপি পাঠানো হবে।

অবশ্য মঙ্গলবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ফল প্রকাশ কোনো অবস্থাতেই ‘অযথা দীর্ঘায়িত’ করা হবে না। ভোটগ্রহণ শেষে ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যাবে।