আজহারিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ভুয়া বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ভুয়া ভিডিও তৈরি করে প্রতারণার অভিযোগে একটি বড় চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজহারি ছাড়াও ডা. তাসনিম জারা ও ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের মতো ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও চেহারা নকল করে তারা অনলাইনে ভুয়া যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন প্রচার করে আসছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ও শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পৃথক অভিযানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে এই চক্রের মোট ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সারাফাত হোসেন (২১), সাফায়েত হোসেন শুভ (২১), তৌকি তাজওয়ার ইলহাম (১৯), তাকিবুল হাসান (২১), আব্দুল্লাহ আল ফাহিম (২২), মিনহাজুর রহমান শাহেদ (১৯), শাহামান তৌফিক (২১), ইমন হোসেন বিজয় (২১), অমিত হাসান (২১) এবং মো. ইমরান (২৪)।
এসময় তাদের কাছ থেকে ১১টি ল্যাপটপ, ৪৭টি স্মার্টফোন, ২১টি সিম কার্ড এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ উদ্ধার করা হয়।
পল্টন মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ড. মিজানুর রহমান আজহারি প্রথম তার নামে প্রচার করা এসব ভুয়া ভিডিও দেখতে পান। তখন তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভক্তদের সতর্ক করেন। পরবর্তীতে তার পক্ষ থেকে আমমোক্তারনামা নিয়ে বিল্লাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ অনুযায়ী একটি মামলা (মামলা নং-১৯) দায়ের করেন।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ড. আজহারির কণ্ঠ ও চেহারা নিখুঁতভাবে নকল করে এমন সব ভিডিও তৈরি করত যা দেখে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতো। ভিডিওগুলোতে দেখানো হতো ড. আজহারি নিজেই ওইসব ভেষজ বা যৌন উত্তেজক ওষুধের গুণগান করছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত চক্র হিসেবে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ইমেজ ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।