যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁস/গ্রেপ্তার সাতজনের ৫ জনই সরকারি কর্মকর্তা

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৪, ১৫ ও ১৬ই অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৫ জনই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী এবং বাকি ২ জন তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির পেছনে কেবল একটিই নয়, বরং একাধিক চক্র কাজ করছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর আর্টিলারি অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেপ্তার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর ও এস এম ইমদাদুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর রুবেল ইসলাম। এর বাইরে চক্রের বাকি ২ সদস্য হলেন মো. মফিজুল ইসলাম ও তার সহযোগী মো. হাসানুর রহমান সুজন।
এসআরবি জানায়, নূর মোহাম্মদ পরীক্ষার দিন ভোর সাড়ে ৪ টায় প্রথম প্রশ্নপত্রের একটি অস্পষ্ট ছবি পান এবং সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে তা জাহাঙ্গীরের কাছে পাঠান। জাহাঙ্গীর স্পষ্ট প্রশ্ন পাঠালে নূর মোহাম্মদ উত্তরপত্র তৈরি করে তা বিতরণকারীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
এসআরবির তথ্যমতে, চক্রটি দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের নিয়োগ জালিয়াতিতে জড়িত। কোনো দপ্তরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর কর্মচারীদের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করে তারা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেকে চুক্তি করত। জামানত হিসেবে পরীক্ষার্থীদের মূল সনদপত্র ও কাগজপত্র রেখে দেওয়া হতো এবং পরীক্ষার হলে কানে বা চুলে সূক্ষ্ম ইলেকট্রনিক ডিভাইস লুকিয়ে সরবরাহ করা হতো।
এ কাজের জন্য তারা তৃতীয় শ্রেণির চাকরির জন্য ৮-১০ লাখ এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য ১৫-২০ লাখ টাকা দাবি করত। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৬০টির বেশি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, ১৯টি প্রবেশপত্র, ১০টি মূল সনদপত্র, ব্যাংকের চেক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
মূল উৎস ও অন্যান্য চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
