জনসাধারণের উদ্দেশে ভোক্তা-অধিকারের সতর্কতা ও ৭ নির্দেশনা

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নাম, পরিচয় এবং বিভিন্ন কর্মকর্তাদের পদবি ব্যবহার করে দেশের ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়ে ৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছে অধিদপ্তর।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহির ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং এর বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের নাম, পরিচয় ও কর্মকর্তাদের পদবি ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী, দোকান মালিক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ দাবি করার ঘটনা অধিদপ্তরের নজরে এসেছে।
প্রতারক চক্রের কোনো কোনো সদস্য নিজেদের অধিদপ্তরের কর্মকর্তা/কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি অথবা বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর, বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক হিসাব বা অন্য কোনো মাধ্যমে এভাবে অর্থ দাবি বা গ্রহণ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদিত কার্যক্রম নয়।
আরও বলা হয়, অধিদপ্তরের নাম, পরিচয়, পদবি, লোগো বা সরকারি কার্যালয়ের পরিচিতি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের চেষ্টা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভোক্তা ও জনসাধারণের প্রতি ৭ দফা নির্দেশনা
১. অধিদপ্তর বা এর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ, চাঁদা, জরিমানা, ঘুষ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করলে কোনো অর্থ প্রদান করবেন না।
২. কোনো ব্যক্তির পরিচয় বা দাবির সত্যতা যাচাই না করে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন করবেন না।
৩. এ ধরনের ফোনকল বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, ফোনকারীর পরিচয়, কলের সময়, দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ, মেসেজ/স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংরক্ষণ করুন।
৪. অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি বা প্রতারণার ঘটনা ঘটলে তা দ্রুত সদর দপ্তর/সংশ্লিষ্ট বিভাগীয়/জেলা কার্যালয়কে অবহিত করুন এবং প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিন।
৫. এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর, যোগাযোগের মাধ্যম ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইসহ তাদের শনাক্তকরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
৬. দেশের সকল ব্যবসায়ী, দোকান মালিক, বাজার কমিটি, ভোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সকলকে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার এবং অন্যদেরও সতর্ক করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
৭. প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন। নিজে নিরাপদ থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন।
এ ছাড়া জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এ বিষয়ে সতর্ক ও সজাগ থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
.png)

