৫ আগস্টের পরের মামলা যাচাই করবে সরকার

ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। এরপর মানবতাবিরোধী যত মামলা হয়েছে, সরকার সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এসব মামলায় প্রকৃত আসামি কারা, তা যাচাই করে জেলা পর্যায় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, এসব মামলায় নিরপরাধ ব্যক্তি বা সাংবাদিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও ডিসিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা হয়েছে, যেগুলো গণহত্যার মামলা এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা। আমরা তাদের (ডিসি) কাছে তালিকা চেয়েছি জেলা পর্যায়ে যে জেলাওয়ারি কতগুলো মামলা সে রকম দাখিল হয়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন অনেক মামলার মধ্যে হাজার হাজার লোককে আসামি করা হয়েছে। সেসব যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আসামি কারা, সেটা তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে যেন সেটা ডিসপোজ অব (নিষ্পত্তি) করতে পারে।’
একই সঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি দেওয়ার কথাও বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
সম্মেলনে জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যু করা প্রায় ১০ হাজার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। এগুলো দ্রুত জমা ও উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নীতি বহির্ভূতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্সগুলো জেলা পর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।