জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় নিভে যায় এই অনন্য প্রতিভার জীবনপ্রদীপ।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক দল ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪-এর জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদকে প্রতিহত করতে শিক্ষার্থীরা নজরুলের গান গাইতে গাইতে রাস্তায় নেমেছিল। অন্যায়কে প্রতিহত করে ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কবি নজরুলই সকলের শক্তি।
তিনি বলেন, সমাজের বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন নজরুল। শুধু সামাজিক অন্যায়ই নয়, সব চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে বিপ্লবের বাণী প্রচার করেছিলেন দ্রোহের কবি।
শ্রদ্ধা শেষে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে প্রতিটি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা ছিলেন নজরুল।
কর্মসূচি: জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুদিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হবে। পরদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘আমারে দেব না ভুলিতে...’ শীর্ষক এ আয়োজনে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান রয়েছে।
অন্যদিকে নজরুল একাডেমির রয়েছে তিন দিনব্যাপী আয়োজন। আজ সকাল ৮টায় নজরুল একাডেমির পক্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদসংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। বাদ জোহর কবির সমাধি সংলগ্ন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে মিলাদ মাহফিল।
২৮ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে নজরুল একাডেমির ‘কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে’ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ২৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে তিন দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠান।
১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেন নজরুল। শৈশব থেকেই কঠিন দারিদ্র্য মোকাবিলা করে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু দারিদ্র্যের কাছে পরাস্ত হননি বরং জয় করেছেন। সৃষ্টি করেছেন কালজয়ী কবিতা, গান, হামদ, নাথ, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীত। সাহিত্যের এমন কোনো স্থান নেই, যেখানে তিনি পদচারণা করেননি।
কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার সময়কাল ছিল মাত্র ২৩ বছর। অল্প এই সময়েই তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বিস্ময়কর অনেক উপহার দিয়েছেন। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মনে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। দেখিয়েছে শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ। তিনি সাহিত্যচর্চা করেছেন আবার মানবমুক্তির প্রত্যাশায় যুদ্ধেও গেছেন। কবি নজরুলের ভাষায়-‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের ব্যবস্থা করে রাজধানীর ধানমন্ডিতে কবিকে একটি বাড়ি দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।



