দুই জেলায় বজ্রপাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

বজ্রপাতে সিলেট ও হবিগঞ্জে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে পৃথক সময় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হবিগঞ্জে আরও তিনজন আহত হন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জে দুই নারী আহত হয়েছেন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বজ্রপাতে ফরাস মিয়া (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আরও তিনজন আহত হন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ছোট ভাকৈর গ্রামের পার্শ্ববর্তী শৌলাগড় হাওরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ফরাস মিয়া ছোট ভাকৈর গ্রামের মৃত আব্দুল মতলিবের ছেলে। আহতরা হলেন—একই গ্রামের সামছুল ইসলাম, জায়েদ মিয়া ও হাফিজুর রহমান। নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে ফরাস মিয়া নিজের ধানক্ষেত দেখতে হাওরে যান। একই সময় সামছুল ইসলাম, জায়েদ মিয়া ও হাফিজুর রহমান হাওরে কৃষিকাজ করছিলেন। হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে তারা একটি ছনের ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় আকস্মিক বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ফরাস মিয়ার মৃত্যু হয়। আহত হন বাকি তিনজন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামছুল ইসলাম ও জায়েদ মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেটে পাঠান।
এদিকে সিলেটের গোয়াইনঘাটে বজ্রপাতে উপেন্দ্র নম (৪৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার চৌধুরী খাল নয়া খাড়ার পাড়ে মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। উপেন্দ্র নম উপজেলার নন্দিরগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরী কান্দি গ্রামের রজনী নমর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, উপেন্দ্র নম সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পাশে নয়া খাড়া মাঠে গরু আনতে যান। এ সময় বজ্রপাতে মাঠেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ওয়ার্ড সদস্য মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া বজ্রপাতে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বউ-শাশুড়ি আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে উপজেলার কামালপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের রাহুল দাসের স্ত্রী মিনা রানী দাস ও তার ছেলে সৌরভ দাসের স্ত্রী দিপালী রানী দাস। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে বৃষ্টির সময় হঠাৎ করে বজ্রপাত হয়। এ সময় কামালপুর গ্রামে নিজেদের বসতঘরে থাকা মিনা রানী দাস ও তার পুত্রবধূ দিপালী রানী দাস আহত হন। পরে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তারা। বজ্রপাতে তাদের প্রতিবেশী সুখ বিহারী দাসের দুটি গাভী মারা গেছে। গাভিগুলো কৃষকদের বাড়িতে গোয়ালঘরে বাঁধা ছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রশান্ত দাস তালুকদার বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়েছে দুজন নারী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।
(প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা)