logo
Advertisement

৩০ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের নতুন দায়িত্ব, কে পেলেন কোন জেলা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
৩০ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী ও হুইপের নতুন দায়িত্ব, কে পেলেন কোন জেলা
ছবি : এশিয়া পোস্ট গ্রাফিকস

দেশের ৬৪ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় কাঠামো তৈরি করেছে সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপ মিলিয়ে ৩০ জন এক থেকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব পালন করবেন। এমনকি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটিও তাদের নজরদারির আওতায় থাকবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সংযোগ অধিশাখা থেকে দেওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি প্রজ্ঞাপনটিতে সই করেন।

গেজেটের তালিকা অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত ৩০ জনের মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ১৪ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন জাতীয় সংসদের হুইপ। ১৩ মন্ত্রীর অধীনে পড়েছে ২৩ জেলা। ১৪ প্রতিমন্ত্রীর অধীনে ৩৩ জেলা এবং তিন হুইপের অধীনে আট জেলা। সাতজনকে একটি করে, ১২ জনকে দুটি করে এবং ১১ জনকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।

সরকার বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করেছে যে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’ দেশের বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে সেই অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। লুট করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, আরেকটি অংশ দেশের ভেতরে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ে ভূমিকা রাখা এবং জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে, এমন কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, টেকসই উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংসদ ও জনগণের কাছেও সম্মিলিতভাবে জবাবদিহি করতে বাধ্য সরকার।

কোন জেলার দায়িত্বে কে

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু—ঢাকা

হাবিবুর রশিদ—গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল—মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ

মো. শরীফুল আলম—টাঙ্গাইল ও নরসিংদী

শামা ওবায়েদ ইসলাম—মাদারীপুর ও শরীয়তপুর

মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ—রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ

ইয়াসের খান চৌধুরী—জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত—শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা

মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী—চট্টগ্রাম

আব্দুল আউয়াল মিন্টু—লক্ষ্মীপুর

জাকারিয়া তাহের—ফেনী ও নোয়াখালী

সাচিং প্রু—কক্সবাজার

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন—খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি

এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান—ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর

ইকবাল হাসান মাহমুদ—রাজশাহী ও নাটোর

আব্দুল বারী—বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ফারজানা শারমিন—সিরাজগঞ্জ ও পাবনা

মোহাম্মদ শামীম কায়সার—জয়পুরহাট ও নওগাঁ

ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন—লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়

আসাদুল হাবিব দুলু—ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর

মীর শাহে আলম—রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির—হবিগঞ্জ

আরিফুল হক চৌধুরী—মৌলভীবাজার

মো. জি কে গউস—সিলেট ও সুনামগঞ্জ

নিতাই রায় চৌধুরী—চুয়াডাঙ্গা

মো. আসাদুজ্জামান—খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত—মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ

শেখ ফরিদুল ইসলাম—যশোর, মাগুরা ও নড়াইল

মো. রাজীব আহসান—বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর

আহমেদ সোহেল মঞ্জুর—বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি

দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যপরিধি

প্রজ্ঞাপনে জেলাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো—

এতে বলা হয়, ১, সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যাবলির জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

২. টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি।

৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫ (২) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক বা তার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা।

৪. রুলস অব বিজনেসের চেপ্টার ৫ এর রুল ৩৩-অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে, যেকোনও ক্ষেত্রে বা ক্ষেত্রসমূহে এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।

৫. রুলস অব বিজনেসের চেপ্টার ১-এর রুল ৪(ii) এবং চেপ্টার ২-এর রুল ১৬(ix) (ই) এবং রুল ১৬(xii)- অনুযায়ী উল্লিখিত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

৬. মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রিট পিটিশন মামলা নং ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

৭. স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণপূর্বক মন্ত্রিসভার উল্লিখিত সিদ্ধান্তের আলোকে, সরকার নিম্নবর্ণিত মাননীয় মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা নিম্নলিখিত জেলা/জেলাসমূহের আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলি তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দিল।’

সরকার বলছে, এসব দায়িত্ব দেওয়ার ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক কিংবা আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না।