ভূমিহীন মানুষের কান্না শোনে না পানশুছি নদী

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পানগুছি নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটছে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এদিকে নদীতীর রক্ষায় নির্মাণকাজ শুরু হলেও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত কাজ পুনরায় শুরু করার দাবি এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকার মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদর ও সংলগ্ন এলাকা সংরক্ষণ শীর্ষক প্রায় ৬৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের আওতায় ২৫টি প্যাকেজে কাজ শুরু হলেও এরমধ্যে ছয়টি প্যাকেজের কাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছিল। এরমধ্যে ক্যাসেল কনস্ট্রাকশন ও তাজুল ইসলাম জেবি নামে দুটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ কোটি টাকার দুটি প্যাকেজের দায়িত্ব পায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অগ্রগতি মাত্র ১৯ শতাংশ হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যাদেশ বাতিল করে ১০ কোটি ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহিন হাওলাদার বলেন, প্রতিদিন একটু একটু করে ঘরবাড়ি আর জমি গিলে খাচ্ছে নদী। আতঙ্কে দিন কাটে আমাদের। কাজ শুরু হয়েছিল দেখে আশা পেয়েছিলাম, কিন্তু এখন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, আমাদের বাড়ির পাশের অনেক জমি নদীতে চলে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে আমাদের বসতভিটাও হারিয়ে যাবে। সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে যাচ্ছে। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে কাজ শুরু করা না হলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত কাজ পুনরায় চালু করা হবে।
