logo
বায়রার সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি
বায়রার সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর দাবি জানিয়েছে জনশক্তি রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সদস্যরা। মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে আবারও সিন্ডিকেট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বিজয়নগরে অবস্থিত হোটেল ফার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নই। আমরা চাই শ্রমবাজার দ্রুত খুলুক। তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়, সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা খুলতে হবে।’

অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বিভিন্ন মহল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, আবারও মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বা প্রায় ১৭ কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে। এমনকি কর্মীপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিত সিন্ডিকেট ফি আদায়ের পরিকল্পনাও চলছে।’

দাবি তুলে ধরে বায়রার এই সদস্য বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণকারী নেপালসহ অন্যান্য সোর্স কান্ট্রির মতো বাংলাদেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে। ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে পুরো শ্রমবাজার কুক্ষিগত করা যাবে না। বাংলাদেশের কোন রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মী পাঠাবে, তা মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ বাছাই করবে—এ ধরনের বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। তবে মালয়েশিয়া সরকার যদি একান্তই সীমিত সংখ্যক লাইসেন্সের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করতে হবে। যাতে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ পায়। প্রয়োজন হলে বোয়েসেল তাদের তদারকি করবে এবং এনওসি প্রদান করবে।’

এ সময় বোয়েসেলের মাধ্যমে এই সার্ভিস চালু করা আদৌ সম্ভব কি না ও কীভাবে বোয়েসেলের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে সরকার—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বোয়েসেলকে সক্ষম করার মানে হচ্ছে তাদের অবকাঠামো উন্নত করে ৫০ থেকে ১০০ কাউন্টার খুলে সার্ভিস দেওয়া। এখানে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলো ডিমান্ড নিয়ে আসবে। এরপর বোয়েসেল সেই ডিমান্ড লেটার (চাহিদাপত্র) অনুযায়ী কর্মী পাঠাবে। প্রয়োজন পড়লে বোয়েসেলকে প্রসেসিং ফি দেবে রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি। এটা খুব কঠিন কোনো বিষয় না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, ১০-২০ হাজার বর্গফুটের অফিস এবং ২০-৫০ জন স্টাফ নিয়ে এটি করা সম্ভব। এটা কোনো কঠিন কাজ নয়, বরং বোয়েসেল এবং রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি যৌথভাবে এই কাজটি করতে পারবে। যেটাকে আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বলতে পারি। সেই অনুযায়ী কিন্তু এটি হতে পারে।’

লিখিত বক্তব্যের আগে বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘সিন্ডিকেট কোনো অবস্থায় হতে দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। কারণ এটা একটা ইমেজ। আমরা প্রস্তুত আছি। এবার সিন্ডিকেট হলে আমরা শহীদ মিনারে যাব, আমরণ অনশন করব।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম এ ছালাম, মফিজ উদ্দিন, আকবর হোসেন মঞ্জু, সাবেক ইসি সদস্য মোহাম্মদ আলী ও হক জহিরুল জুয়েল প্রমুখ।