ঢাকায় রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপিত

ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাসের আয়োজনে রাশিয়ার জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে দিবসটি উদযাপন করে রুশ দূতাবাস।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সরকার ও সংসদের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং সোভিয়েত ও রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্ট্যুরিন তার উদ্বোধনী বক্তব্যে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের প্রধান সাফল্যগুলো তুলে ধরেন, যা ইতোমধ্যে রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক মস্কো সফর এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের বাস্তবসম্মত চালুর ওপর বিশেষ জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এ দেশের (বাংলাদেশের) জন্মলগ্ন থেকেই বিদ্যমান। ভৌগোলিক দিক থেকে আমাদের দেশ দুটি হয়তো দূরে অবস্থিত, কিন্তু আত্মিক দিক থেকে আমরা অত্যন্ত কাছাকাছি। বিগত কয়েক দশকে কৃষি ও খাদ্য সরবরাহ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও শিল্প উন্নয়ন, শিক্ষা এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের মেলবন্ধনের মতো বিভিন্ন খাতে আমাদের অংশীদারিত্ব প্রসারিত হয়েছে।’

বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ায় বৃত্তির সুযোগ আরও বাড়ছে উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ সেন্ট্যুরিন বলেন, ‘আমাদের জনগণের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাশিয়ায় পড়াশোনা করার ব্যাপারে বাংলাদেশের তরুণদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার সরকার বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। কোনো সন্দেহ নেই যে, এই ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের উন্নয়নে এক অসামান্য অবদান রাখবেন।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মহামান্য ড. মো. নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে রাশিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) ভিয়াচেস্লাভ সেন্ট্যুরিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এশিয়া পোস্টের সম্পাদক পলাশ মাহমুদ।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে ‘আলাবুগা ফোক সং অ্যান্ড ড্যান্স এনসেম্বল’-এর চমৎকার পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। তাতারস্তান প্রজাতন্ত্র থেকে সরাসরি আসা এই শিল্পীরা তাদের অঞ্চলের নৃত্য, বাদ্যযন্ত্রের সুর এবং লোক ও আধুনিক গান পরিবেশন করে দর্শকদের বিনোদিত করেন। এর মাধ্যমে রুশ দূতাবাসের অতিথিরা রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ‘তাতার’-দের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উপভোগ করার সুযোগ পান।
