logo
Advertisement

‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান

এশিয়া পোস্ট নিউজ
‘এশিয়ার নোবেল’ র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন রুনা খান
রুনা খান। ফেসবুক থেকে নেওয়া

‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের রুনা খান। তিনি বেসরকারি সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। মানুষের সেবা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি এবং পিছিয়ে পড়া মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার সক্ষমতা তৈরিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

চলতি বছররুনা খানের সঙ্গে আরও দুজন এই পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন— সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের ১১৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ৬৮তম আসরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ১৫ নভেম্বর ম্যানিলার মেট্রোপলিটন থিয়েটারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের এমন কাজের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে, যা ম্যাগসাইসাইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা চিরস্থায়ী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটায়। এর মধ্যে রয়েছে অন্যের সেবায় নিয়োজিত থাকা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে নিতে সহায়তা করা।

২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হতো মোট ছয় শ্রেণিতে। সেগুলো হলো— সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব।

২০০০ সাল থেকে উদীয়মান নেতৃত্ব শ্রেণিতে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এই শ্রেণির পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে শুধু এই ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া আর কোনো সুনির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে আবদ্ধ নেই পুরস্কারটি।

র‍্যামন ম্যাগসাইসাই ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ মর্মান্তিক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান। একই বছর র‍্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ১৯৫৮ সাল থেকে তার নামে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।

রুনা খান ২০০২ সালে ‘ফ্রেন্ডশিপ’ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রেন্ডশিপ একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্দেশ্যভিত্তিক সংস্থা (এসপিও)। সংস্থাটির লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ব গড়ে তোলা, যেখানে সবাই—বিশেষ করে যাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন এবং যাদের প্রয়োজন উপেক্ষিত— মর্যাদা ও আশার সঙ্গে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ পাবেন।

ফ্রেন্ডশিপ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করে। যেসব জনগোষ্ঠীর জন্য সংস্থাটি কাজ করে, তাদের স্বার্থকে সব সময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্রেন্ডশিপের মূল লক্ষ্য প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত থাকা, পরিবেশগত সংকট, চরম দারিদ্র্য, বৈষম্য ও অবিচারের মতো ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে সংস্থাটির এই লক্ষ্য এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক