মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের সব সহযোগিতা দিচ্ছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত চার বাংলাদেশি নিহত ও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সব শ্রমিক ও প্রবাসীদের পাশে বাংলাদেশ সরকার রয়েছে এবং সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতালে সরকারের উদ্যোগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের সার্বিক খোঁজ-খবরও রাখা হচ্ছে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশি সালেহ আহমদ ওরফে আহমদ আলীর (৪৮) মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। মরদেহ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আরিফুল হক বলেন, প্রবাসীদের যে কোনো সংকটের সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় পরিবারের সদস্যদের মতো তাদের পাশে থাকবে।
চলমান সংঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিহত বাংলাদেশি সালেহ আহমদের মরদেহ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সালেহ আহমদের মরদেহ মৌলভীবাজারের বড়লেখার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
এর আগে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সালেহ আহমদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সহযোগিতায় সালেহ আহমদের মরদেহ দেশে আনা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুরে তার মরদেহ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়।
সিলেট থেকে মরদেহটি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে সালেহ আহমদের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে মারা যান সালেহ আহমদ। তিনি বড়লেখা পৌরসভার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের মৃত সবর আলীর ছেলে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি পানির গাড়ি চালাতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তিনি পানির গাড়ি চালানোর সময় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহত হন। উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।