logo

থাকছে না লটারি, কৃষক যত খুশি ধান দিতে পারবেন গুদামে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

থাকছে না লটারি, কৃষক যত খুশি ধান দিতে পারবেন গুদামে: খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

এবার সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহে থাকছে না কোনো লটারির ঝামেলা, কৃষকরা ইচ্ছেমতো ধান সরাসরি সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

রোববার (৩ মে) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া পাবলিক হল মিলনায়তনে বোরো মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার কৃষকরা সরাসরি গুদামে ধান দিতে পারবেন। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। সরকার পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কৃষকের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়ের আগেই ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তামূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোরভাবে কাজ করছে। কোনো ধরনের সিন্ডিকেট যাতে সক্রিয় হতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে। কৃষক যেন সহজে কৃষি উপকরণ পায়, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায় এবং তাদের পরিবার যেন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারে—সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রসঙ্গে আব্দুল বারী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকার তিন মাস সহায়তা দেবে। প্রয়োজন হলে এই সহায়তার সময় আরও বাড়ানো হবে।

এর আগে বিকেলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এতে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খাদ্য অধিদপ্তর ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) অধ্যাপক আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের এমপি মাছুম মোস্তফা, জেলা পরিষদের প্রশাসক নুরুজ্জামান নুরু, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সর্দার, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোয়েতাছেমুর রহমান।

অনুষ্ঠান শেষে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।