হঠাৎ ফেসবুকে বাংলাদেশি ফুড চেইনগুলোয় কেন এত ‘চুরি’র আলাপ

ওজনে ১২ টন, সংখ্যায় ৪১৩,৭৯৩টি বার। তবে সোনাদানা নয়, ছোটবড় সবার প্রিয় খাবার—চকোলেট। বিখ্যাত সুইস চকোলেট কিটক্যাটের একটি চালান চুরি যাওয়ার পর বিবৃতিতে চোরদের ‘রুচির প্রশংসা’ করেছে কিটক্যাট। এ ঘটনার পর বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সুপরিচিত ফুড চেইন তাদের ফেসবুক পেজে কিটক্যাটের বক্তব্য ‘কপি’ করে নিজেদের প্রচারণা করছে।
কিটক্যাট তাদের ফেসবুক পেজে জানায়, ফ্যাক্টরি থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পরিবহনের পথে তাদের ১২ টন চকোলেট বার চুরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করছে। তবে এ ঘটনায় সরবরাহের কোনো ঘাটতি হবে না এবং সঙ্গে তাদের পণ্যের ভোক্তাদেরও দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে কিটক্যাটের মতো সুস্বাদু খাবার চুরি করায় চোরদের ’রুচির প্রশংসা’ও করেছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিত্বকারীরা।
এরপর ঘটনাটি বিশেষ করে চোরদের রুচির প্রশংসার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুনিয়াজোড়া ভাইরাল হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ফুডচেইন ব্র্যান্ড এ ঘটনার পর কিটক্যাটের বিবৃতির আদলে নিজেদের প্রচারণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চিলক্স, পিজাবার্গ, কাচ্চিভাইয়ের মতো জনপ্রিয় ফুড চেইন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক পোস্টেই অবিকল কিটক্যাটের বিবৃতির আদলে তাদের নিজেদের পণ্য চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া, সেটির অনুসন্ধান এবং ক্রেতাদের নিশ্চিত থাকার কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্যও ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে।
এই হুবহু ‘অনুকরণ’ করা পোস্টগুলোতে মন্তব্যও অনেকেই করেছেন রসিকতার ভঙ্গিতে। কেউ কেউ অবশ্য ‘অনুকরণ’ করার বিষয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন বা প্রচারণার উদ্দেশ্যে এভাবে ‘কপি’ করার সমালোচনাও করেছেন।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী এবং ফুড ভ্লগার মীর রায়হান মাসুদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, “বিদেশি কোনো ব্র্যান্ডকে সরাসরি অনুকরণ করা আমাদের দেশে নতুন নয়। সত্যি বলতে, বিভিন্ন সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা বা মজাদার কপিগুলোও আসলে ভিনদেশের কোনো ব্র্যান্ড থেকে কপি করে নেওয়া। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সব ধরনের ক্রেতা বা ভোক্তারা নিয়মিত কোনো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বক্তব্য বা কৌশল বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন না। এ জন্য এ ধরনের ‘কপি’ করা কাজ নিয়ে তেমন সমালোচনাও হয় না।”