ব্যাংক লেনদেনের ওপর কর আরোপের চিন্তা করছে সরকার: এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, ব্যাংক লেনদেনের ওপর কর আরোপ এবং অতিরিক্ত সম্পদশালীদের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়ে ভাবছে সরকার। ব্যাংক লেনদেনের ওপর কর আদায় করা যায় কি না, সে বিষয়েও কাজ করছে এনবিআর। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমাতে বন্ড অডিট প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনেরও ঘোষণা দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানিয়েছেন, প্রতি বছর বন্ড অডিট করার যে নিয়ম রয়েছে, তা সহজ করতে একটি বিশেষ ‘সিস্টেম’ তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের আর প্রতি বছর অডিটের ঝক্কি পোহাতে হবে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অতিরিক্ত নিয়মনীতির কারণে সময় ও অর্থ দুই-ই নষ্ট হয়। আমরা জটিল পদ্ধতিগুলো সহজ করতে চাই। বন্ডে অনেক অনিয়ম হয়, তবে আমরা অডিটকে এমন একটি সিস্টেমে আনব, যাতে প্রতি বছর হয়রানি হতে না হয়। তবে বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আব্দুর রহমান খান জানান, এখন থেকে ভ্যাট ফেরতের প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনের মাধ্যমে হবে। করদাতারা অনলাইনে আবেদন করবেন এবং কোনো গরমিল না থাকলে টাকা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। আয়করের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি চালুর কাজ চলছে।
এখন থেকে আয়কর কর্মকর্তারা কাস্টমসের তথ্য সরাসরি দেখতে পারবেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এর ফলে কোনো আমদানিকারক বা রপ্তানিকারক তথ্য গোপন করলে সহজেই ধরা পড়বে।
তিনি জানান, গত বছর ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা আদায় হলেও আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ৫ কোটি টাকা। তবে তিনি এই আদায় প্রক্রিয়া যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত করার আশ্বাস দেন।
সভায় চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রশাসক মো. মোতাহার হোসেন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- বর্তমান মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সাধারণ মানুষের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা; আমদানির সময় দেওয়া আগাম কর ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা; পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শিল্প স্থাপনে ভ্যাট ও কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়া; ৫ বছর ধরে ঝুলে থাকা ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়া দ্রুত করতে একটি আলাদা ‘অডিট উইং’ তৈরি।
সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, আগামী বাজেটে করের বোঝা না বাড়িয়ে করদাতার সংখ্যা বাড়ানো এবং হয়রানি কমানোর দিকে নজর দেবে সরকার।