ঈদযাত্রায় নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়ার নির্দেশ নৌ পুলিশের

ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছাড়া এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম। তিনি নৌ পথে যাত্রী, পণ্য ও কোরবানির পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে নৌ পুলিশ কাজ করছে বলে জানান।
মঙ্গলবার (১৯ মে) নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব তথ্য জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি মো. রেজাউল করিম বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রী ও কোরবানির পশু পরিবহনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে নৌ পুলিশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, নৌপথে ত্রুটিযুক্ত যানবাহন চলাচল রোধে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরেজমিনে তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ ছাড়া এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন থেকে বিরত থাকতে হবে। একইসঙ্গে নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সভায় নৌপথে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত, নৌঘাটের নিরাপত্তা, পণ্য ও পশুবাহী নৌযানের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এছাড়া নদীতীরবর্তী কোরবানির পশুরহাট, পশুর চামড়া পরিবহন, লঞ্চ, স্পিডবোট ও বাল্কহেড চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়। এ সময় নৌ পুলিশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুলিশ সুপাররাও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
সভায় বক্তারা ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথ নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন। যাত্রী ও পশুবাহী নৌযান চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে নৌ পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— লঞ্চ ও নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বহন বন্ধ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস মেনে নৌযান পরিচালনা, চাঁদাবাজি ও চুরি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি, নৌপথে টহল জোরদার এবং নির্ধারিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ নিশ্চিত করা।
সভায় নৌপথ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জ অফিসের পুলিশ সুপার, নৌ পুলিশ সদরদপ্তরের কর্মকর্তারা, কোস্ট গার্ড প্রতিনিধি, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধিসহ নৌ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।