logo

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার সত্যতা পেলে ছাড় নয়: আইজিপি

পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক সম্পৃক্ততার সত্যতা পেলে ছাড় নয়: আইজিপি
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের পুলিশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাদের সময়ের উদ্যোগের ফলে একটি সংগঠিত পুলিশ বাহিনী গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময় পুলিশের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যবহারজনিত কারণে যে জনবিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে বাহিনী আবারও তার ইমেজ পুনরুদ্ধার করছে এবং শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।

তিনি আরও বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেসব দেশপ্রেমিক পুলিশ সদস্যদের, যারা মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। একই সঙ্গে স্মরণ করছি সেসব পুলিশ সদস্যদের, যারা মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।

আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশাল বাহিনী। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আজকের পুরস্কারপ্রাপ্ত সদস্যরা তাদের সাহস, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি বলেন, মাদক আমাদের যুবসমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তবে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জড়িত কিছু পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আইজিপি বলেন, পুরস্কার প্রাপ্তি শুধু স্বীকৃতি নয়, এটি দায়িত্ববোধ, পেশাগত উৎকর্ষ ও নেতৃত্বের প্রতীক। এই অর্জন সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি পুরস্কারপ্রাপ্ত সব সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন এবং দেশের কল্যাণে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

গত ১ মার্চ ২০২৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও প্রশংসনীয় কর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৪১ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৫’ প্রদান করা হয়। আইজিপি তাদেরকে ব্যাজ পরিয়ে দেন।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের ভিত্তিতে গত ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সাফল্য অর্জনকারী ইউনিটসমূহকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও কুমিল্লা জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে কক্সবাজার জেলা পুলিশ প্রথম, কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ দ্বিতীয়, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ প্রথম, মাগুরা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ প্রথম, র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার দ্বিতীয় ও র‍্যাব-২, ঢাকা তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ডিবি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মিরপুর বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে।

২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ প্রথম, কুমিল্লা জেলা পুলিশ দ্বিতীয় এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘খ’ গ্রুপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ ১ম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ ২য় এবং হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ ৩য় হয়েছে। ‘গ’ গ্রুপে লালমনিরহাট জেলা পুলিশ প্রথম, শেরপুর জেলা পুলিশ দ্বিতীয় ও গাজীপুর জেলা পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঘ’ গ্রুপে র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার প্রথম, র‍্যাব-৯, সিলেট দ্বিতীয় ও র‍্যাব-১১, নারায়ণগঞ্জ তৃতীয় হয়েছে। ‘ঙ’ গ্রুপে ওয়ারী বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রথম, তেজগাঁও বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ দ্বিতীয় ও মতিঝিল বিভাগ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তৃতীয় হয়েছে। ‘চ’ গ্রুপে হাইওয়ে পুলিশ প্রথম, রেলওয়ে পুলিশ দ্বিতীয় এবং এপিবিএন তৃতীয় হয়েছে।

শীল্ড প্যারেড প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে যৌথ মেট্রোপলিটন দল, দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে এপিবিএন দল এবং তৃতীয় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ দল।