ঈদে কত দিনের ছুটি পাবেন চাকরিজীবীরা

পবিত্র রমজান মাস ইবাদতের মাস। এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জন্য আসে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। রমজান শেষে শাবান মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে পারে ঈদুল ফিতর।
এবার রোজার শুরু থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা এবার ঈদে কত দিন ছুটি কাটাতে পারবেন, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে।
প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ছুটিতে অসংখ্য মানুষ ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যান। কাছাকাছি সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ার কারণে পথে পথে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজনসহ নানা ভোগান্তি।
তবে ঈদের ছুটি তুলনামূলক বড় হলে বা বাড়তি ছুটি থাকলে এই ভোগান্তি অনেকটা কমে আসে বলে অভিমত অনেকের। যে কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাহী আদেশে বাড়তি ছুটিও ঘোষণা করতে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি মোট পাঁচ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে ঈদের ছুটি শুরুর এক দিন আগে শবেকদরের ছুটি ও দুই দিন পরে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় মোট ছুটি কোনোভাবে বাড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন বা কৌতূহল আছে অনেকের মধ্যে।
এবারের ঈদের ছুটি কত দিন
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। পরদিন ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম রোজা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে।
আরবি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। এ বছর যদি মার্চের ২০ তারিখ হিজরি শাবান মাসের, অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ঈদুল ফিতর।
আর যদি রমজান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে আরও এক দিন পর অর্থাৎ ২২ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে।
এ বছর বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি মোট পাঁচ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হিসাব করে সরকারিভাবে ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার থেকে সোমবার ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
২৭ রমজান শবেকদরের দিন সবসময় সরকারি ছুটি থাকে। এ বছর ১৭ মার্চ মঙ্গলবার শবেকদরের বন্ধ আগে থেকেই নির্ধারিত রয়েছে।
পরদিন ১৮ মার্চ বুধবার সাধারণ কর্মদিবস। ১৯ মার্চ ২৯ রোজা থেকেই শুরু হচ্ছে পাঁচ দিনের ঈদের সরকারি ছুটি। এই ছুটি শেষ হবে ২৩ মার্চ সোমবার।
এরপর ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিন অফিস-আদালত খোলা থাকবে। তবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ছুটি রয়েছে। পরের দুই দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন।
সেই হিসাবে সরকারি চাকরিজীবীরা ২৪ ও ২৫ মার্চ দুই দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিলে ১৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত টানা ১০ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পেতে পারেন।
আবার ১৮ মার্চ এক দিনের বাড়তি ছুটি নিলে শবেকদর থেকেই এই ছুটি উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের।
সরকার ঘোষিত ছুটিতে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই বন্ধ থাকে। তবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষই মূলত ছুটি নির্ধারণ করে থাকে।