logo

জানুয়ারির মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর: শ্রমমন্ত্রী

জানুয়ারির মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর: শ্রমমন্ত্রী
সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন শ্রমমন্ত্রী। বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের অবিলম্বে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

​সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের সময় কোনো নিরীহ শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়ে থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে কোনো দুষ্কৃতকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চলতি আন্দোলনের মধ্যে গাজীপুরে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ১ লাখ টাকা অর্থসহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

​শ্রমিকদের চিকিৎসা সুবিধার কথা উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, টঙ্গীতে ১০০ শয্যার এক শ্রমজীবী বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

​মজুরি কাঠামোর অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং এরই মধ্যে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।

​তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কারখানায় ফিরে যান। মজুরি নিয়ে কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে মজুরি বোর্ডে দিন। রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার বা শিল্প ধ্বংস করার কোনো চক্রান্তে কান দেবেন না।

​প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাক খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি ও স্বার্থ নিশ্চিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

​বৈঠকে শ্রমিক প্রতিনিধিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং সাধারণ শ্রমিকদের শান্ত থেকে কর্মস্থলে ফেরার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে মজুরি বৃদ্ধির পাশাপাশি শিল্প এলাকায় আইন প্রয়োগ করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

​সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদারসহ সরকার, মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রায়হান রাশেদ

সম্পাদনা

রায়হান রাশেদ

সহ-সম্পাদক | এশিয়া পোস্ট