logo

ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ

ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের এ ‘প্রতিষ্ঠা’ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

দেশের দুর্যোগপ্রবণ উপকূল, হাওরাঞ্চল এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম শক্তিশালী করা হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মানবিক সহায়তা সংস্থার অর্থায়নে সরকার-নেতৃত্বাধীন আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতি, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও কার্যকর করতে ‘প্রতিষ্ঠা’ নামে একটি প্রকল্প শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের এ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম সফিকুল হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা কেবল সরকারের একক দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত ও অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগ। এ ধরনের প্রকল্প ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘প্রতিষ্ঠা’ নামক এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। এতে অংশীদার হিসেবে রয়েছে অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, অ্যাকটেড বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে কারিগরি সহযোগী হিসেবে রয়েছে আরআইএমইএস এবং মাঠপর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে ইএসডিও, এনএসএস ও উত্তরণ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এএফসির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে আগাম সতর্কতামূলক দুর্যোগ কার্যক্রমকে স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা।

পরে কেয়ার বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফুয়াদ উর রব্বি প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে ‘ফরেস্ট-টু-অ্যাকশন’ পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্বাভাসভিত্তিক তথ্যকে সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা হবে। এতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও বিভিন্ন খাতের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তিনি জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগ-পূর্ব আগাম প্রস্তুতি, সতর্কবার্তা এবং সময়োপযোগী মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এটি মূলত মূলত নদীবিধৌত বন্যাপ্রবণ এলাকা, হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে কাজ করবে। মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৃষ্ট বহুমাত্রিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণই হবে এর প্রধান লক্ষ্য।

এর আওতায় ৮৭ হাজারের বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যাতে লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আলোচনা ও রিফ্লেকশন সেশনে কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, স্বাস্থ্য, পানি ও স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতেও আগাম প্রস্তুতির সমন্বিত কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আগামী দুই বছরে প্রকল্পটি দ্রুততর কার্যক্রম, আগাম সতর্কবার্তার বিস্তৃত প্রচার এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমাপনী বক্তব্যে কেয়ার বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর (প্রোগ্রামস) এমেবেট মেনা বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।

আয়োজনে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন এবং ইকোর প্রোগ্রাম অফিসার মোকিত বিল্লাহ ছাড়াও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সংস্থা, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।