logo

ক্ষমতা যেন অন্যায়-নিপীড়নের কারণ না হয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ক্ষমতা যেন অন্যায়-নিপীড়নের কারণ না হয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে ক্ষমতা যেন কারও ওপর অন্যায়, নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দল আয়োজিত ‘এসো হে প্রজন্মের যোদ্ধারা পরিচিত হই একে অপরের সাথে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল অন্যায়, অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে। আজও একই আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে ক্ষমতা যাতে কারও ওপর অন্যায়, নির্যাতন বা নিপীড়নের কারণ না হয়, সে জন্য স্পষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাদের ওপর আস্থা রেখে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। একদিকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছিল এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল, সেখান থেকে দেশকে উদ্ধার করতে হবে।

বাংলাদেশকে উন্নত ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এসব কাজ করতে হলে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে রাজনীতি করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলকে একটি ‘এলিট’ ও ‘রেসপেক্টেড’ সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মকে দেশব্যাপী সংগঠিত করতে হবে। সংগঠনের সদস্যদের কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য কোনো সংগঠনবিরোধী কার্যক্রম পাওয়া গেলে সঠিক যাচাই-বাছাই ও তদন্তের মাধ্যমে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন মানচিত্র, স্বাধীন রাষ্ট্র ও স্বাধীন পতাকা পাওয়া গেলেও বাংলাদেশের লড়াই শেষ হয়ে যায়নি। দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনোভাবে এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখতে মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম অগ্রণী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্তি মিলেছে। তবে ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে যায়নি। এই ষড়যন্ত্র চলমান থাকবে এবং তা ধারাবাহিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, তাদের প্রতি তার সব ধরনের সহযোগিতা থাকবে। দ্রুত কর্মসূচি হাতে নিয়ে প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে সংগঠন গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

দ্রুত কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা।