logo

শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনে সেনাবাহিনীকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সেনাবাহিনীকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ ১৭৫ জন সদস্য এবং আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বমঞ্চে আমাদের শান্তিরক্ষীরা যে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, তা শত প্রতিকূলতা, সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই সম্ভব হয়েছে। দেশের এই গৌরব যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়, সেটি রক্ষা করা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান কর্তব্য।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে আস্থার জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। শান্তিরক্ষী মিশনে নারীদের অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দুই লাখেরও বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য ৪৩টি দেশের ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে ৯টি মিশনে ৪ হাজার ২১২ জন শান্তিরক্ষী কাজ করছেন।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর স্বাধীনতার ঘোষকের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, ঠিক তেমনি ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আসা সর্বগ্রাসী আঘাতসহ সব ধরণের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে বাহিনীকে এগিয়ে যেতে হবে। ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য প্রফেশনালিজম, ইউনিটি, ডিসিপ্লিন এবং চেইন অফ কমান্ড বজায় রাখা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, আধুনিক যুদ্ধ ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এখন বদলে গেছে। সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার এবং তথ্যযুদ্ধের মতো নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এসব মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।

২০২৫ সালে সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত ৬ সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন এবং আহত সদস্যদেরও সম্মাননা প্রদান করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মিশনে কর্মরত শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সেনা ও পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।