অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে দারিদ্র্য বরং বেড়েছে: প্রধানমন্ত্রী

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচলিত ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করা হয়। এরপরও দারিদ্র্যের হার কাঙ্ক্ষিত রূপে হ্রাস পায়নি। বরং আমরা দেখেছি, বিগত ১৮ মাসে দরিদ্র ব্যক্তির সংখ্যা বেড়েছে, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে যা এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, নাগরিকদের সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এই দায়বদ্ধতাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর মধ্যে বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের হাতিয়ার বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। এই কর্মসূচির মূল দর্শনই হচ্ছে ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।
জনগণের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও দেখা যাচ্ছে না জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘দেখা গেছে কোনো পরিবারের মাকে এ ধরনের সহায়তা দিলে, পরিবারের শিশুসহ অন্য সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি ও জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এতে অর্থের অপচয় বা অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের সুযোগ হ্রাস পায়। এ কারণেই ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এসব প্রকল্পের বরাদ্দকরণ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাভাবিকভাবে এর বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে জিনিসগুলোকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। কৃষক কার্ড যারা পাবেন, তারা বছরে পাবেন আড়াই হাজার টাকা এবং ফ্যামিলি কার্ড যারা আছেন নারী, তারা মাসে পাবেন আড়াই হাজার টাকা।
প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটিকে এক্সটেন্ড (বৃদ্ধি) করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী কৃষক কার্ড পাবেন, অধিক সংখ্যক কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। একবারে সবাইকে দিচ্ছি না; পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষে এটি একবারে দেওয়া সম্ভব না করা। সে জন্য প্রতি বছরই আমরা বাজেটে স্যাংশন বাড়াব। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে টাকা এলট (বরাদ্দ) করব। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে এগোব।
দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন মার্কেটে যাবে, যারা কৃষক কার্ড পাচ্ছেন, সেই সকল কৃষক, প্রান্তিক পর্যায়ের যে নারীরা পাচ্ছেন টাকা, নিশ্চয় তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। সেই লোকাল অর্থনীতিতে তারা খরচ করবেন। একজন নারী স্বাভাবিকভাবে সেটি দিয়ে তার সন্তানের লেখাপড়ার পেছনে খরচ করবেন। অথবা সেটি দিয়ে তার সন্তানের বা পরিবারের একটু ভালো খাবারের ব্যবস্থা করবেন অথবা তিনি লোকালি কোনো ছোট ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবেন। ফলে যেই টাকাটা সরকারের কাছ থেকে তার কাছে যাচ্ছে, সেই টাকা লোকাল ইকোনমিকে শক্তিশালী করছে। এতে মূল্যস্ফীতি হবে না, বরং অর্থনীতি সচল হবে।
এর ফলে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ উন্নত জীবন পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।