logo
Advertisement

‘গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে’

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
‘গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে’
শিক্ষার্থী সিফাত ও রাশেদ খান। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কটূক্তি ও গালাগালির অভিযোগে কলেজশিক্ষার্থী সিফাত আব্দুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক আইন প্রয়োগের দ্বিচারিতা ও বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও কটাক্ষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

Advertisement

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, ‘গালি আমি খুবই অপছন্দ করি। যেকোনো পরিস্থিতিতেই গালি দেওয়া অশোভন, অশ্লীল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আমার পছন্দ-অপছন্দে তো আর দেশ চলবে না। চব্বিশের আন্দোলনের পর গালি এখন রাজনীতির স্বাভাবিক ভাষায় পরিণত হয়েছে। গালাগালি করে অনেকে রাতারাতি জাতীয় নেতা বনে গেছেন।’

রাজনীতিতে অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং এর প্রতি প্রশাসনের দ্বিমুখী আচরণের উদাহরণ দিয়ে স্ট্যাটাসে তিনি এক দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। তিনি লেখেন, “আমি একজনের কিছু কথা এখানে উল্লেখ করছি: ‘দেখেন, রাস্তা দিয়ে শুয়োরের বাচ্চা যখন হেঁটে যায়, ওই শুয়োরের বাচ্চাগুলোকে যদি আপনি মানুষের বাচ্চা হিসেবে দেখেন, তাহলে কী হবে? আমি এর আগেই বলেছিলাম যে, কতিপয় শুয়োরের বাচ্চার জন্ম হয়েছে যারা আজকে রাজনীতিকে কলুষিত করছে। এই নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী তাদের একজন। এর থেকে ভালো ভাষায় আমি আর তাকে বলতে পারছি না।’ এই কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এজন্য তাকে কোনো আইনগত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়নি।”

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর অশালীন মন্তব্য এবং সাধারণ শিক্ষার্থীর গ্রেপ্তারের বিষয়টির বৈপরীত্য তুলে ধরে মাসুদ কামাল আরও লেখেন, ‘বিপরীত দিকে গালি দিয়ে কলেজছাত্র সিফাত আবদুল্লাহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আসলে সব গালি এক নয়। মনে হচ্ছে গালিতে কোনো সমস্যা নেই, গালিটা কাকে দেওয়া হচ্ছে সেটাই আসল দেখার বিষয়।’

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আইনি ব্যবস্থার প্রতি বিদ্রূপ ছুড়ে দিয়ে এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, ‘গালি দিয়ে সিফাত কারাগারে, আর রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে!’