logo

রাশিয়ায় নিহত রিয়াদের বাড়িতে গণঅধিকারের প্রতিনিধিদল, মরদেহ ফেরাতে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

রাশিয়ায় নিহত রিয়াদের বাড়িতে গণঅধিকারের প্রতিনিধিদল, মরদেহ ফেরাতে প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস
ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার যুবক মো. রিয়াদ রশিদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারিভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাঁশহাটি গ্রামে রিয়াদের বাড়িতে যান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তারা নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।

প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে নিহত রিয়াদের বাবা আব্দুর রশিদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

ফোনালাপে তিনি রিয়াদের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে পরিবারকে আশ্বস্ত করেন, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারিভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবারটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

নিহতের বাবা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ বলেন, আমার ছেলে না জানিয়েই যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এখন সরকারের কাছে আমার একটাই আবেদন, আমার ছেলের লাশটা যেন ফেরত পাই। দেশের মাটিতে তাকে দাফন করতে পারি।

জাফরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, রিয়াদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা গেলে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসী কিছুটা সান্ত্বনা পাবে। একইসঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য রাশিয়া সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশেই তারা পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিতে এসেছেন

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের মরদেহ বিনা খরচে দেশে আনা এবং তাদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করে যাচ্ছেন। রিয়াদের বিষয়েও তিনি অত্যন্ত আন্তরিক।

প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অভি চৌধুরী, জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমন খান, সাধারণ সম্পাদক পায়েল চৌধুরী, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজানসহ অন্যান্য নেতারা।

উল্লেখ্য, রিয়াদ রশিদ গত ৭ এপ্রিল রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার ব্যাচ নম্বর ছিল ৭৩৫। তিনি করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বাঁশহাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের অভাব দূর করার স্বপ্ন নিয়ে বাবার কৃষিজমি বন্ধক রেখে ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ। সেখানে প্রথমে একটি ওয়েল্ডিং কোম্পানিতে কাজ করতেন। পরে রাশিয়ার নাগরিকত্ব ও বাড়তি আয়ের আশায় রাশিয়ান সরকারের আহ্বানে গত ১ এপ্রিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেন তিনি।

গত ২ মে পোল্যান্ড-ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় রিয়াদ রশিদসহ তিনজন নিহত হন। তবে তার মৃত্যুর খবর পরিবার জানতে পারে ৮ মে।