আমরা পরিবর্তন না হলে সরকার দেশ পরিবর্তন করতে পারবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য আমাদের সন্তানদের প্রাথমিক শিক্ষা দিয়ে ও নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে, পরিবার থেকে পরিবর্তনের শিক্ষা দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। সরকার একা দেশ পরিবর্তন করতে পারবে না যদি না আমরা নিজেরা যে যার জায়গা থেকে পরিবর্তন হই।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘প্রিমিয়াম মাইন্ড মাস্টার রিট্রিট অ্যান্ড এমসিএ কনভোকেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। মানুষের হলিস্টিক ওয়েলবিইং, মেন্টাল ফিটনেস ও ব্যক্তিগত বিকাশে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে ড. মেছবাহ উদ্দিনের ‘ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং এনএলআই সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রেদওয়ান হোসেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তি, লেখক, মাস্টার কোচ এবং অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, আমরা ভাবি সমাজ পরিবর্তন করব, সমাজ পরিবর্তন করতে যা যা লাগে তার মধ্যে আজকের উদ্যোগও একটি। এই জন্য আমি ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। আজকে এখানে যারা মাইন্ড কোচ আছেন এবং ড. মেছবাহসহ সমাজের জন্য আপনারা যারা কাজ করে যাচ্ছেন আমি সবাইকে অ্যাপ্রিশিয়েট করি।
তিনি ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট বইটির প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি চাইব এরকম একটি বই আমার লাইব্রেরিতে থাকুক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান হোসেন বলেন, মেন্টাল ওয়েলবিইং নিয়ে বাংলাদেশের পার্সপেক্টিভে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তবে বৈশ্বিকভাবে মেন্টাল হেলথকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ার আগেই আমরা যদি মেন্টাল স্ট্রেস নিয়ে কাজ করতে পারি সেটি সবচেয়ে উত্তম। ডিফোকাসসহ নানা স্ট্র্যাটেজিক পদ্ধতিতে স্ট্রেস কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করার জন্য আমি মেছবাহকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন ও ওয়েলবিইং পাবলিকেশনের কাজগুলো দুটো পারপাস সার্ভ করছে। এক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে, দ্বিতীয়ত সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।
কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, পৃথিবীতে ওয়েলনেস প্রয়োজন নেই এমন কোনো প্রাণী নেই। তবে এই বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাজ নেই। ব্যক্তির ওয়েলনেস পরিবার, সমাজ সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলে। আমাদের সামাজিক ও আর্থিক যে অবস্থা, যদিও ডেভেলপমেন্ট আসছে নানা ক্ষেত্রে, কিন্তু আমাদের মানসিক ওয়েলনেস, সফট স্কিল ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। আজকে যারা মাইন্ড মাস্টার হয়েছেন তাদের কাছে বলছি ওয়েলনেসকে মানুষের মধ্যে সংক্রামকের মতো ছড়িয়ে দেবেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডিং চেয়ারম্যান, অথর এবং দ্য মাইন্ড মেন্টর ড. মেছবাহ উদ্দিনের নতুন বই ‘ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা।
বইটিতে আধুনিক জীবনে ওভারথিংকিং, মেন্টাল নয়েজ ও থট প্যাটার্ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং চিন্তাকে দমন করার পরিবর্তে কার্যকরভাবে পরিচালনার বিভিন্ন বাস্তবধর্মী ধারণা ও কৌশল তুলে ধরা হয়েছে। ‘আনলিশ দ্য পাওয়ার অব হিলিং’ এবং ‘স্লিপ ওয়েলনেস ব্লুপ্রিন্ট’-এর পর এটি ড. মেছবাহ উদ্দিনের ওয়েলবিইং-কেন্দ্রিক লেখালেখির ধারাবাহিকতায় নতুন সংযোজন।
অনুষ্ঠানে ড. মেছবাহ উদ্দিন বলেন, আমরা এমন একটি সময়ে বাস করছি, যখন ইনফরমেশনের অভাবের চেয়ে মেন্টাল ওভারলোড এবং মেন্টাল নয়েজ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ‘ওভারথিংকিং ডিটক্স ব্লুপ্রিন্ট’-এর মূল মেসেজ হলো ‘আপনার চিন্তার সঙ্গে লড়াই না করে, বরং সেগুলোকে পরিচালনা করতে শিখুন’।
তিনি আরও বলেন, মানুষের ওয়েলবিইংকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখা জরুরি। এই দর্শন থেকেই ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মানুষের শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, পেশাগত, পরিবেশগত এবং পারিবারিক ওয়েলবিইং—জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডাইমেনশন নিয়ে সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন তৈরিতে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে ওয়েলবিইং বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শের শাহসহ ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল মাস্টার কোচ অ্যাক্সেলারেটর (এমসিএ) কনভোকেশন। প্রোগ্রাম সম্পন্নকারী মাস্টার কোচদের সার্টিফিকেট ও রিকগনিশন দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
একই আয়োজনে ড. মেছবাহ উদ্দিনের মেন্টরশিপের সঙ্গে যুক্ত ছয়জন নতুন লেখকের ছয়টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। নতুন লেখক তৈরি এবং তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বইয়ের মাধ্যমে বৃহত্তর পাঠকসমাজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বইগুলো প্রকাশ করা হয়।
.png)






