Advertisement

রোগী ভাগানো আর কমিশন খাওয়া বন্ধ করতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
রোগী ভাগানো আর কমিশন খাওয়া বন্ধ করতেই হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কথা বলছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একইসঙ্গে রোগী অন্যত্র ভাগিয়ে কমিশন খাওয়া বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে এই গবেষণা চালানো হয়।

টেস্ট বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে বাইরে ক্লিনিক চালানো, সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে সার্জারি করা এবং কমিশন খাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের কৌশলে পাশের ক্লিনিকে টেস্ট করাতে পাঠানোর মতো অনিয়ম কঠোরভাবে মনিটর করা হবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডারে অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যা প্রতিহত করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের আমলের অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও দুর্নীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে কেনা হলেও যথাযথ প্রস্তুতি বা রেডি সেটআপ না থাকায় সেগুলো ফরিদপুর ও খুলনায় অব্যবহৃত পড়ে আছে। এ ছাড়া কারিগরি লোকবল না থাকায় বিভিন্ন স্থানে এক্স-রেসহ দামি যন্ত্রপাতি কিনে ফেলে রাখা হয়েছে।

বিগত সরকারের স্বাস্থ্য খাতের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত চার বছরে হামের টিকা সংগ্রহ না করায় বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের ৯৯ শতাংশই টিকা পায়নি। তবে বর্তমান দায়িত্বশীল সরকার এই টিকাদান কর্মসূচি বেগবান করেছে এবং ইতোমধ্যে ১ লাখের বেশি শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় একটি বিদেশি কোম্পানির ডায়ালাইসিস ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্যের চুক্তির মেয়াদ আগামী নভেম্বরে শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন কিনে কম খরচে সেবা নিশ্চিত করবে এবং প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং এআই-সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ প্রদান করা হবে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও বিভিন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন।

মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ বা অনৈতিক লেনদেন সহ্য করা হবে না। সৎ কর্মকর্তাদের যেকোনো পরিস্থিতিতে সুরক্ষা দিতে তিনি নিজে পাশে থাকবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।