logo
Advertisement

বুড়িগঙ্গার নৌপথ সচল ও নিরাপদ করতে সরকার কাজ করছে: যোগাযোগমন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
বুড়িগঙ্গার নৌপথ সচল ও নিরাপদ করতে সরকার কাজ করছে: যোগাযোগমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার চারপাশের নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে নৌচলাচল অবাধ, সচল ও নিরাপদ করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেল ও নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

Advertisement

তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত রাখতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা নদীতে আয়োজিত নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আধুনিকতার ছোঁয়ায় নতুন প্রজন্ম যেসব ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সেগুলো আবারও পুনর্জীবিত হচ্ছে। নৌকাবাইচের মতো আয়োজন বাংলাদেশের মানুষের গর্বের জায়গা।

তিনি বলেন, ঢাকা একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ৪১৬ বছর ধরে ঢাকা এ অঞ্চলের ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। একসময় ঢাকা ছিল সংস্কৃতির বিকাশের কেন্দ্র। চার শতাব্দীর বেশি সময় ধরে ঢাকা দেশ ও অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছে।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, তিনি নিজেও ঢাকার একজন সংসদ সদস্য। ঢাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষায় সহযোগিতা করা তাঁর দায়িত্বের অংশ। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিতে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুড়িগঙ্গা নদীর প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকায় আসার সময় তিনি নদীটির অনেকটা অংশ দূষণমুক্ত দেখতে পেয়েছেন। বুড়িগঙ্গাকে ঘিরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, শিল্প-কারখানা, বিআরটিএ ও পর্যটন করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, নৌকাবাইচই প্রমাণ করে নদীকে কীভাবে মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির সঙ্গে ধারণ করা যায়। ঢাকাকে নতুন করে সাজানো, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব করা এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আবহে গড়ে তুলতে প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

নদীর তীর দখলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে আসার পথে নদীর পাড়ের বেশ কিছু জায়গায় ইট, বালি ও পাথর রেখে বিক্রি করতে দেখেছেন তিনি। এতে নদীর পাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। যেহেতু এসব এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন, তাই এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ কাজে তাঁরা পাশে থাকবেন বলেও জানান।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নদী দখল, সৌন্দর্য নষ্ট কিংবা কোনো গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে ঢাকার নদীগুলোকে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। নদীগুলো অবশ্যই দূষণমুক্ত করতে হবে এবং ঢাকার চারপাশে নৌচলাচল অবাধ রাখতে হবে। এটি জনগণের দাবি। মানুষ নিরাপদ ও মনোরম নৌযাতায়াত চায়।

নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর পাড়ের কিছু অংশ এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষ অবাধে চলাচল করতে পারে। বিকেলে অবসর সময়ে মানুষ নদীর পাড়ে এসে সময় কাটাতে ও নৌযাত্রা উপভোগ করতে পারে—সেভাবেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

নৌকাবাইচ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ছোটবেলায় তিনিও নৌকাবাইচে অংশ নিয়েছেন। গ্রামের ছেলে হিসেবে এ ধরনের আয়োজন তাঁর কাছে অত্যন্ত আনন্দের। নৌকার মাঝিরা সর্বাত্মক শক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করে নৌকা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে শারীরিক কসরত, আনন্দ, প্রতিযোগিতা এবং জয়-পরাজয়—সবকিছুই থাকবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, গণমাধ্যমকর্মী ও বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।