logo

ছিনতাইয়ের মামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে ছিলেন পাঁচ বছর

ছিনতাইয়ের মামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে ছিলেন পাঁচ বছর

দীর্ঘ ৫ বছর আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না। রাজধানীর কাফরুল থানার একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলার পলাতক আসামি মো. শাহাদাত হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন খান এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান। 

গ্রেপ্তারকৃত শাহাদাত হোসেন বরিশাল জেলার বিমানবন্দর থানার চন্দ্রপাড়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে কাফরুল থানায় ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর রাজধানীর মহাখালীর ইউসুফ লাইন পার্কের সামনে থেকে এক নারীকে জোরপূর্বক প্রাইভেটকারে তুলে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তাকে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ফার্মগেট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি।

প্রাথমিকভাবে পুলিশ একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও অজ্ঞাত বাকি দুই আসামিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালে আদালতের নির্দেশে মামলার অধিকতর তদন্ত ও অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায়, ঘটনার দিন শাহাদাত হোসেন চার্জশিটভুক্ত প্রধান আসামির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন। মূলত তিনিই ওই সময় অপহরণকাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন। ঘটনার পর শাহাদাত দীর্ঘ ৫ বছর নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। অবশেষে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম ইউনিটের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত হোসেন ওই অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। সিআইডি জানিয়েছে, তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া এই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম ইউনিট।