Advertisement

নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ৫০০ বেড

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ৫০০ বেড
ছবি : সংগৃহীত

দেশে স্নায়ু রোগ বা স্নায়বিক ব্যাধির (নিউরোসিস) চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়ানো হচ্ছে। রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে আরও ৫০০ শয্যার নতুন একটি ভবন চালু হচ্ছে আগামীকাল শনিবার। এর ফলে এটি দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল ১০টায় নতুন এই ভবনটির শুভ উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই হাসপাতালের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ। এটি চালু হলে হাসপাতালটির মোট শয্যা সংখ্যা বেড়ে এক হাজারে দাঁড়াবে। দেশের বৃহত্তম বিশেষায়িত স্নায়ুরোগ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে এই হাসপাতাল।

জানা গেছে, নতুন এ ভবনটি ১৫ তলাবিশিষ্ট। এর নিচের তিনতলা বেজমেন্ট হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখানে পার্কিং এরিয়ার পাশাপাশি সার্ভিস সেকশনও রয়েছে। ওপরের ১২ তলায় ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক ইউনিটের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া সেখানে রয়েছে ৪০টি আইসিইউ বেড, ২৪টি পোস্ট-অপারেটিভ বেড ও ১১২টি কেবিন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে সবচেয়ে বেশি আসে স্ট্রোকের রোগী। তারপরই রয়েছে দুর্ঘটনার রোগী (মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে আঘাত)। এ ছাড়া পারকিনসন্স ডিমেনশিয়া, জিবিএস, মৃগী, হাইড্রোকেফালাসসহ নিউরোলজিক্যাল বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা এ হাসপাতালে সেবা নেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসা মেলে এ হাসপাতালে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলাবিশিষ্ট নিনস ইউনিট-২ সম্পূর্ণ সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম (শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত)। যেটি দেশের কোনো সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রথম সংযোজন। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা, উঁচু জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে বা যানবাহন দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ১০০ শয্যার বিশেষায়িত ট্রমা ইউনিট রয়েছে। যেখানে ২৪ ঘণ্টা ওটি (অস্ত্রোপচার কক্ষ) সুবিধা আছে। চারটি ওটির মধ্যে দুটি মডুলার ওটি (জীবাণুমুক্ত এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষ ধরনের অপারেশন থিয়েটার) রয়েছে। জার্মান প্রযুক্তির অত্যাধুনিক এই ওটিতে অস্ত্রোপচার হওয়া রোগীদের ইনফেকশন (সংক্রমণ) ঝুঁকি থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাধারণত পঙ্গু ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের পরিবহনে চ্যালেঞ্জ থাকে। এ ঝুঁকি হ্রাসে নতুন হাসপাতাল ভবনটির এক ফ্লোর থেকে অন্য ফ্লোরে রোগী স্থানান্তর সুবিধায় এক থেকে তিনতলা পর্যন্ত স্কেলেটর (চলন্ত সিঁড়ি) রয়েছে। এটিও কোনো সরকারি হাসপাতালে প্রথম সংযোজন। রয়েছে ৪০ শয্যার আইসিইউ ও ২০ শয্যার এইচডিইউ (নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র) ও ৬২টি ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র) সুবিধা। একটি ক্যাথল্যাব, দুটি এমআরই ও দুটি সিটি স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে। অত্যাধুনিক অটোক্লেভ (চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্তকরণ) মেশিন, চিকিৎসা বর্জ্য অপসারণে সলিড ওয়েস্ট ডিজপোজাল সিস্টেম ও পৃথক অক্সিজেন প্ল্যান্ট ব্যবস্থা রয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) নতুন ভবনটির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে সংযুক্ত হবে আরও ৫০০ শয্যা।

বর্তমানে শয্যাসংকটের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক রোগীকে ফিরিয়ে দিতে হয়। কারণ এখানে শয্যার বাইরে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না। উদ্বোধনের পর আমরা আরও অনেক রোগীকে বিশ্বমানের সেবা দিতে পারব। রোগীকে আর ফেরত দিতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, দেশে নিউরো রোগীদের চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তার জন্মদিনে তার সুযোগ্য পুত্র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হাসপাতালের নতুন ভবনের শুভ উদ্বোধন করবেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া ও গর্বের একটি বিষয়।

সূত্র: বাসস