কারা বিভাগে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইজি প্রিজন্সের শুদ্ধি অভিযান

দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি, মাদক সরবরাহ ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে বাংলাদেশের কারা বিভাগে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এসব অনিয়ম বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি কারা বিভাগের বিভিন্ন স্তরে চলমান অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেন।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে কারাগারের ভেতরে মাদক সরবরাহ, বন্দি নির্যাতন ও নানা ধরনের সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
কারা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কম গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে বাধ্যতামূলক অবসরও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিজ জেলা বা বিভাগে কর্মরত থেকে অনিয়মে জড়িয়ে পড়া কর্মচারীদের অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগ ছিল কারা ক্যানটিন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম হতো। বিভিন্ন কারাগারে ক্যানটিনের আয়ের বড় অংশ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে চলে যেত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা কারাগার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, গাজীপুর জেলা কারাগার, বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কারাগারগুলোতে ক্যানটিনের লভ্যাংশ আগের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে এবং এই অর্থ বন্দিদের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে কারা অধিদপ্তরের। আগে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ ছিল, সেখানে এবার আর্থিক লেনদেন ছাড়াই অনেক দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়ে চাকরি পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
কারা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হওয়ায় ক্ষুব্ধ কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে কারা মহাপরিদর্শকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান আইজি প্রিজন্স দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। এতে অনেকের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
এ বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, কারা বিভাগের কোনো সদস্য কর্মরত অবস্থায় অন্যায় বা অনিয়মে জড়িত থাকলে কারা অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, কারা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক আইডি খুলে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এসব অপপ্রচার রোধে কারা অধিদপ্তর ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। যারা এ ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। অতীতে যারা এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।