‘জালিমরা যেন জুলুম করতে না পারে’ মোনাজাতে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার তাৎপর্য, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত। ‘ইয়া আল্লাহ, জালিমরা যেন কারও ওপর জুলুম করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিন’—মোনাজাতে এমন অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় ঈদগাহ ময়দানে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে অংশ নেন।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
মোনাজাতে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও কবুলিয়ত কামনা করে বলা হয়, ইয়া আল্লাহ, সব মজলুম ভাইদেরকে জুলুম থেকে হেফাজত করুন। জালিমরা যেন কারও ওপর জুলুম করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করে দিন।
একইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে ইবাদত পালনের সুযোগ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের জন্য দোয়া করা হয়।
মোনাজাতে আরও বলা হয়, ‘কোরবানির শিক্ষা যেন আমরা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করতে পারি।’ অসহায় ও কোরবানি দিতে না পারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তৌফিক কামনাও করা হয়। পাশাপাশি দেশের সরকারকে ‘হিম্মত, নেক নিয়ত ও সৎ সাহস’ দেওয়ার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য চারটি এবং বের হওয়ার জন্য সাতটি পৃথক পথ রাখা হয়। পুরো মাঠে ১২১টি কাতার প্রস্তুত করা হয়। ছিল একসঙ্গে ১৪০ জন ওজু করার বিশেষ ব্যবস্থা।
ঈদগাহে নিরাপত্তা ছিল ছয় স্তরের। জাতীয় ঈদগাহসহ ঢাকায় প্রায় এক হাজার ঈদ জামাতকে ঘিরে এক হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।
