দেশের উন্নয়ন একা পারব না, জনগণকে সঙ্গে লাগবে: তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করে তোলা, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে দেশের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা, ভবিষৎ প্রজন্মকে মানুষ করে গড়ে তোলা। মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। এই কাজ করতে হলে আমরা একা পারব না, জনগণকে সঙ্গে লাগবে। নির্বাচনের সময় যেমন সমর্থন দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে এখনও আপনাদের সমর্থন ছাড়া দেশ উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেজন্য দেশের মালিক আপনারা জনগণ, মালিক সঙ্গে থাকলে আমরা যে কোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারব।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা এমন একটি দল করি, যেই দলের কাজ হচ্ছে সে কাজগুলো করা যে কাজগুলো করলে মানুষের উপকার হয়, যে কাজগুলো করলে মানুষ খুশি হবে। আমরা চেষ্টা করি সে কাজগুলো করতে এবং সে কারণেই আজ আমরা একত্রিত হয়েছি, এই সাহাপাড়া খালটি পুনর্খননের কাজ শুরু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের মানুষই একাত্তর সালে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল, ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার বিদায় করেছিল। এই দেশের মানুষই শহীদ জিয়ার সময়ে খাল খননের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিদেশে রপ্তানি করেছিল। এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা। আর সজাগ থাকতে হবে। যারা বিভিন্ন রকম কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায়।
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার নির্বাচনি ওয়াদার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা এরই মধ্যে সে কাজটি শুরু করেছি। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এরই মধ্যে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। ধীরে ধীরে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একটু সময় লাগছে। সরকারের বয়স মাত্র এক মাস।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারপরও আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সে কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি—একইভাবে কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব, যা আগামী মাস থেকে চালু হবে। ক্ষুদ্র-প্রান্তিক ও মধ্যম চাষিদের কাছে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারেন। বিএনপি সরকার হচ্ছে কৃষকের বন্ধু। কৃষক ভালো থাকলে, কৃষাণী ভালো থাকলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। বাংলাদেশের কৃষিকে আমরা শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই।
কৃষকের কথা চিন্তা করে আগামী পাঁচ বছরে সরকার সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, খাল কাটা জরুরি এজন্য যে, বাংলাদেশের সব খাল ভরাট হয়ে গেছে। এমনকি বর্ষা মৌসুমেও খরা হয় অনেক জায়গায়। পানির অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা এই বর্ষার পানিটাকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই। উজানের সময় যে পানি পাওয়া যাবে, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। যাতে শুষ্ক মৌসুম এবং বর্ষা মৌসুম- দুভাবেই কৃষকরা উপকৃত হন। কৃষকের উপকারে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।
তিনি বলেন, এই খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে আজকে দেশ গড়ার কর্মসূচি শুরু হলো। আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেই বাংলাদেশের মানুষ তার নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হবে, সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এই কর্মসূচি কতটুকু সফল হলো খোঁজ রাখব এবং খাল খনন সম্পন্ন হলে আবার দেখতে আসব।
তারেক রহমান বলেন, আমরা কৃষকের পাশে থাকতে চাই। আমরা নির্বাচনি ওয়াদা করেছিলাম—ভোটে জয়লাভ করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার। সরকার গঠনের পরে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিএনপি কৃষকের কথা মনে রেখেছে। সেই বৈঠকে কৃষিঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সাহাপাড়া খালটির দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ২ কিলোমিটার। এই খালটির সঙ্গে পুনর্ভবা নদীর সংযোগ রয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা এই নদী ঠাকুরগাঁও হয়ে দিনাজপুরে প্রবেশ করেছে, যা পঞ্চগড়ের মহানন্দা নদীতে গিয়ে মিশেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।