logo
Advertisement
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার

৩৩৮ এজেন্সির তালিকাকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যা দিয়ে ১০ সংগঠন সংবাদ সম্মেলন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
৩৩৮ এজেন্সির তালিকাকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যা দিয়ে ১০ সংগঠন সংবাদ সম্মেলন
‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্টস অ্যালাইন্স’ এর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৩৩৮টি এজেন্সির কাঠামোকে ‘সিন্ডিকেট’ আখ্যা দিয়েছে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কর্মরত ১০টি সংগঠন। এই সিন্ডিকেট প্রত্যাখ্যান করে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা এবং সরকার ঘোষিত বিশেষ ১০ হাজার কর্মীর তালিকা নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছে তারা।

Advertisement

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে অবস্থিত ‘সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ’ (সিডব্লিউসিএস)-এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। ‘ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেন্টস অ্যালাইন্স’-এর ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উইথনেস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, গত ২৯ আগস্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে মোট ৩৩৮টি এজেন্সি (২৫টি সরাসরি এবং ৩১২টি সহযোগী) কাজ করবে। তবে এজেন্সির সংখ্যা ২৫ হোক কিংবা ৩৩৮, নিয়ন্ত্রণ ও খরচ নির্ধারণের ক্ষমতা গুটি কতক প্রতিষ্ঠানের হাতেই কেন্দ্রীভূত থাকে। দিনশেষে অতিরিক্ত খরচের এই বোঝা শ্রমিককেই বইতে হয়।

তিনি আরও বলেন, নেপাল, পাকিস্তান বা মিয়ানমারের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া কোনো বিশেষ এজেন্সিভিত্তিক ব্যবস্থা রাখেনি; এটি কেবল বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই করা হয়েছে। ফলে বিদ্যমান চুক্তিটি এই মুহূর্তে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করে না এবং অবিলম্বে তা সংশোধন করা জরুরি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়:

১। সব ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা বাতিল করে যেকোনো বৈধ এজেন্সির জন্য সমান ও উন্মুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা।

২। সিন্ডিকেটে জড়িত এজেন্সি বাদ দেওয়ার বিষয়টি স্বচ্ছ ও প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্যভাবে বাস্তবায়ন করা।

৩। ঘোষিত ‘জিরো-কস্ট’ বা বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়টি স্বাধীন কাঠামোর মাধ্যমে পরীক্ষা করা।

৪। পূর্বে আটকে পড়া ১৬ হাজার ৯৭০ জন শ্রমিকের সমুদয় টাকা অবিলম্বে ফেরত দেওয়া এবং

৫। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত কর্মীদের সুরক্ষা, কর্ম পরিবেশ ও অভিযোগ প্রতিকারের সহজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

সভাপতির বক্তব্যে সিডব্লিউসিএসের সভাপতি অধ্যাপক ইসরাত শামীম বলেন, আমাদের দেশ থেকেই এই সিন্ডিকেটগুলো গড়ে উঠেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে অতীতে ভূমধ্যসাগর বা আন্দামানে যে মানবিক ট্র্যাজেডি আমরা দেখেছি, তেমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বোমসা) উপপরিচালক প্রবীর কুমার বিশ্বাস, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আনিসুর রহমান খান এবং ওকাপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুব ইলাহী।

সংবাদ সম্মেলনে যৌথভাবে অংশ নেওয়া ১০টি সংগঠন হলো— সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ, উইথনেস ফাউন্ডেশন, ওকাপ, আইএমএ রিসার্চ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ অভিবাসী মহিলা শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশন (বোমসা), অনির্বাণ, শিল্ড, সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশন, পল্লী সোসাইটি এবং কক্সবাজার প্রবাসী ফোরাম।